বৃহস্পতিবার , ডিসেম্বর ১৪ ২০১৭ | ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / Uncategorized / ঈদ-উল-ফিতর!! আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

ঈদ-উল-ফিতর!! আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

ঈদ-উল-ফিতর
********************
ঈদ শব্দটি আরবি। যার অর্থ হচ্ছে-ফিরে আসা। যেহেতু ঈদ খুশির বার্তা নিয়ে বার বার ফিরে আসে এবং ঈদ উদযাপনে অভ্যস্ত তাই মানুষ বার বার ঈদ পালন করে । সে যাই হোক যেহেতু এ দিনটি বার বার ফিরে আসে এবং মুসলমানরা এ দিনে তাদের প্রভুর নির্দেশ পালন করে আনন্দ পায় তাই এর নামকরণ করা হয়েছে ঈদ।

ঈদের একাধিক অর্থ থাকলেও আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ ঈদ বলতে খুশিই বুঝে থাকেন। এ খুশির দিন প্রতি বছর দু’বার আসে। রমজানেরর ঈদকে ঈদ-উল-ফিতর বা রোযার ঈদ, আর কোরবানির ঈদকে ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদ বলেই আমরা জানি। ঈদ-উল-ফিতর দ্বারা এ দিবসের নাম রাখার তাৎপর্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ দিবসে তার বান্দাদের নিয়ামাত ও অনুগ্রহ দ্বারা বারবার ধন্য করেন ও তাঁর ইহসানের দৃষ্টি বার বার দান করেন। যেমন রমজানে পানাহার নিষিদ্ধ করার পর রমজানের পর পরই আবার পানাহারের আদেশ প্রদান করেন।

হাদীসে এসেছে- ‘রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনাতে আগমন করলেন তখন মদিনায় দুটো দিবস ছিল; যে দিবসে তারা খেলাধুলা করত। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন এ দুই দিনের তাৎপর্য কি? মদিনাবাসী বললেন, আমরা এ দুই দিনে খেলাধুলা করি। তখন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ দুই দিনের পরিবর্তে তোমাদের এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দুটো দিন দিয়েছেন। তা হলো ঈদ-উল- আযহা ও ঈদ-উল-ফিতর।’ (আবু দাউদ)

ঈদের দিনে করণীয়
***************************
ঈদ আমাদের জন্য একটি ইবাদত ও বিরাট নিয়ামত। যা আমরা অনেকেই এ দিনটিকে নিয়ামত হিসাবে গ্রহণ করি না। এ দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে। যা আমাদের জন্য ইবাদাত এবং পালন করা আবশ্যক-

ক. ঈদের দিনে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা : হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি তারা ইশা ও ফজর নামাজের মধ্যে কী আছে তা জানতো তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দুটি নামাজের জামায়াতে উপস্থিত হতো। (বুখারি ও মুসলিম)

খ. ঈদের দিন গোসল করার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা : ইবনে উমার রাদিয়ালাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি ঈদ-উল-ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন।

গ. ঈদের দিনে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান কর : ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি দুই ঈদের দিনে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। (বায়হাকি)

ঘ. ঈদে সুগন্ধি ব্যবহার ও সাজ-সজ্জা গ্রহণ করা : এ দিনে সব মানুষ একত্রে জমায়েত হয়, তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত হলো আল্লাহর নিয়ামাত ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় স্বরূপ নিজেকে সর্বোত্তম সাজে সজ্জিত করা। তাইতো হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দার উপর প্রদত্ত নিয়ামাতের প্রকাশ দেখতে পছন্দ করেন।’

ঙ. হেঁটে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া : ঈদের সলাত আদায়ের জন্য পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত।

চ. ঈদগাহে এক পথে গিয়ে অন্য পথে আসা : ঈদগাহে এক পথে গিয়ে অন্য পথে ফিরে আসা সুন্নাত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের দিনে পথ বিপরীত করতেন। (বুখারি) অর্থাৎ যে পথে ঈদগাহে যেতেন সে পথে ফিরে না এসে অন্য পথে বাড়ি ফিরে আসতেন। এটার হিকমত হচ্ছে- যাতে উভয় পথের লোকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।

ছ. তাকবির দেয়া : আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের সহজ চান, কঠিন চান না, আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ করতে পারো এবং তিনি তোমাদের যে হিদায়াত দিয়েছেন তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ কর (তাকবির) এবং যাতে তোমরা শোকর কর।’ (সূরা বাকারা : আয়াত ১৮৫) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদ-উল-ফিতরের দিন ঘর থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতেন। ঈদের সলাত শেষ হওয়া পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতেন। যখন সলাত শেষ হয়ে যেতো তখন আর তাকবির পাঠ করতেন না।

জ. ঈদের সলাত আদায় করা; ঈদের মাঠে ইমামের সঙ্গে ঈদের নামাজ জামায়াতে আদায় করতে হবে।

ঝ. ঈদের নামাজের পর খুতবা শ্রবণ করা। ঈদের সলাত আদায়কারীকে ঈদের খুতবা বাধ্যতামূলক শুনতেই হবে এমন কথা নেই। হাদীসে এসেছে, আব্দুল্লাহ বিন সায়েব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করলাম। যখন তিনি ঈদের নামাজ শেষ করলেন, তখন বললেন, আমরা এখন খুতবা দেব। যার ভাল লাগে সে যেন বসে আর যে চলে যেতে চায় সে যেতে পারে। (আবু দাউদ) তবে খুতবা শ্রবণ করা সাওয়াবের কাজ। কারণ দুই খুতবায় আল্লাহর গুণগান, প্রশংসা, তাকবির পাঠ করা হয়। তা শ্রবণ করলে এবং পাঠ করলে অধিক সাওয়াব পাওয়া যায়।

ঈদের সলাতের পূর্বে খাবার গ্রহণ করা : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদ-উল- ফিতরের দিন কিছু খেঁজুর না খেয়ে বের হতেন না। কোনো কোনো বর্ণনা এসেছে তিনি বিজোড় সংখ্যায় খেঁজুর খেতেন। ঈদ-উল-ফিতরের দিনে ঈদের সলাত আদায় করতে যাওয়ার আগে খাবার গ্রহণ করা।

to be continue…

About Shishir

Check Also

আমার পরিচয় [ সৃষ্টিতত্ত্ব ] : ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।

আদম সৃষ্টি আমার পরিচয় : সৃষ্টিতত্ত্ব ************************* আল্লাহ্ কঠিন, কোমল, মধুর ও তিক্ত মৃত্তিকা সংগ্রহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *