বৃহস্পতিবার , ডিসেম্বর ১৪ ২০১৭ | ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / ধর্ম ও ইতিহাস / আমার পরিচয় [ সৃষ্টিতত্ত্ব ] : ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।

আমার পরিচয় [ সৃষ্টিতত্ত্ব ] : ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।

আমার পরিচয় [ সৃষ্টিতত্ত্ব ]:

ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।

হযরত শীষ (আঃ) :
******************
হযরত শীষ (আঃ) ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মর্যাদাবান ছিলেন। হাবিলের উত্তম বিনিময় হিসাবে আল্লাহ হযরত আদম [আঃ] কে এ পুত্র দান করেন।

হযরত শীস (আঃ) এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন, তার নাম রাখা হয় আনুশ। তিনি প্রাপ্ত বয়স্ক হলে। হযরত শীস (আঃ) ফযরী জগত হতে বিদায় নেন।

আনুশের পরে স্থালাভিষিক্ত হয় তার পুত্র কীনান। তিনিও পিতা আনুশ ও পিতামহ শীসের সত্য সঠিক পথ প্রদর্শন করে মৃত্যু বরণ করেন। কীনানের পরে মাহেলাইল নামক তাঁর এক পুত্র স্থালাভিষিক নিযুক্ত হন।

হযরত ইদরীস (আঃ) :
*******************
তার আসল নাম আখনুখ । ইদরীস তার উপাধি । তাঁর বংশ ধারা হচ্ছে আখনুখ বিন এযদ বিন মাহেলাইল বিন কীনান বিন আনূশ বিন শীস বিন আদম ।

হযরত ইদরীস (আঃ) এর অধস্তন বংশধারা আখনুখ (ইদরীসের পুত্র ) মোতাবওয়াশাহে, মোতাবওয়াশাহের পুত্র লামেক , লামেকর পুত্র নুহ। হযরত নুহ (আঃ) হযরত ইদরীস (আঃ) এর অধস্তন বংশধারা তৃতীয় স্তরে জন্ম গ্রহন করেন।

হযরত নূহ (আঃ) :
****************
তার বংশধারা হচ্ছে- নূহ বিন লামেক বিন মোতাশা- ওয়ালেহ্ বিন আখনুখ (ইদরীস) বিন এযদ বিন মাহলাইল বিন কীনান বিন আনুশ বিন শীস বিন আদম।

হযরত নূহ (আঃ) এর সুদীর্ঘ কালে মাত্র চল্লিশ জন পুরুষ ও সমসংখ্যক নারী দমন আনে। আল্লাহ্ তায়ালা নিদের্শক্রমে হযরত নূহ (আঃ) কাহাড়োপরি আয়োজন করে মানুষকে আল্লাহ্ প্রতি আহবান করতেন। আল্লাহ্র হুকুমে নূহ (আঃ) আওয়াজ পৃথিবীর পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে চলে যেত এবং তা সকলের কাছে পৌছাতো। কিন্তু অভিশাপের দল কালেমায় আওয়াজ শুনে কানে আঙ্গুল দিত। কাফেররা পালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় লুকাতো।আবার অভিশপ্ত কাফেররা নুহ (আঃ) এর উপর অত্যাচার করতো। তাকে বিভিন্ন যন্ত্রনা দিত এবং মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলতো ।

হযরত নুহ (আঃ) কাফেরদের আল্লাহ্ পাকের কথা বলে, তাকে মারধর করা হতো। রক্তাক্ত করে ফেলতো। হযরত নুহ (আঃ) অতিষ্ট হয়ে আল্লাহর দরবারে বলেন। হে রব, আমি পরাজিত হয়ে গিয়েছি। আপনি এদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেন। হযরত নুহ (আঃ) এর দোয়া আল্লাহ কুবুল করলেন।

মহাপ্লাবন :
************
হযরত জিবরাঈল (আঃ) জান্নাতের গাছ থেকে একটি ডাল এনে দেয়। হযরত নুহ (আঃ) সে ডালটিই রোপন করেন। সে গাছ ছয়’শ গজ লম্বা এবং চার’শ গজ চওড়া হয়।হযরত নুহ (আঃ) আল্লাহ্র দরবারে দোয়া করলেন যে, পৃথিবীতে কাফেরদের একটি গৃহ যেন অবশিষ্ট না থাকে। তখন জিবরাইল (আঃ) এসে বললেন হে নুহ এ গাছ দ্বারা কিশতী বানাব জিবরাইল (আঃ) তাঁকে কিশতী বানানো শিখিয়ে দিলেন। হযরত নুহ (আঃ) গাছ কেটে তারপর সেটি চিরে তক্তা করলেন। তক্তা করা হলে তা থেকে কিশতী বানাতে শুরু করলেন। তক্তা দিয়ে কাঠের কাছ করা হলো। গাছের ডাল দিয়ে পেরেকের কাছ করা হলো।

হযরত জিবরাঈল (আঃ) শিখানো পদ্ধতিতে হযরত নুহ (আঃ) কিশতী তৈরি করলেন। কিশতী তৈরি হলে, হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাকে বললেন এবার আপনি বায়তুল মামুয়ের যেয়ারত করুন। আল্লাহ তায়ালা রায়তুল মামুর উঠিয়ে নিবেন। জিবরাঈল (আঃ) প্রত্যেক প্রকার প্রানীর একেক জোড়া কিশতী উঠিয়ে নেওয়ার জন্য নুহ (আঃ) কে বলেন। এতে নুহ (আঃ) জবাব দিলেন, প্রানীকুলের কোনটি দুনিয়ার পূর্ব প্রান্তে আর কোনটি পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে। সবগুলো কি করে একত্রে করব। অতঃপর আল্লাহর হুকুমে সেগুলোর প্রত্যেকটির একেক জোড়া হযরত নুহ (আঃ) এর নৌকায় উঠিয়ে দেন। নুহ (আঃ) পরবর্তী এবং একপুত্র পানিতে ডুবে মারা যায়। কিন্তু তাঁর তিন পুত্র কিশতীতে অবস্থান করে।

হযরত নুহ (আঃ) এর তিন পুত্র সাম, হাম ও ইয়াফেস কিশতীতে আরোহন করেন ও জীবিত ছিলেন। চল্লিশ দিন পর্যন্ত এক নাগাড়ে আসমান হতে পানি বর্ষিত হতে থাকে এবং ভূমি হতে উত্তলে উঠতে থাকে। ছয় মাসে পাহাড় শৃঙ্খলাপরি পানি কিছুটা কমে এবং কেশতী জুদী পাহাড়ে গিয়ে থামে [জুদি পাহাড় শাম বা সিরিয়া দেশে অবস্থিত]। বৃষ্টি থেমে যায় এবং জমিন এমন ভাবে শুকিয়ে যায় যে, তাতে এক ফোটা পানিও অবশিষ্ট থাকে না।

অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে হলো, হে নুহ- কিশতীর তক্তা দ্বারা তুমি এখানে মসজিদ নির্মান কর। এই নিদের্শে পেয়ে তিনি জুদি পাহাড়ে একখানা মসজিদ নির্মান করে। এর কিছু দিন পর হযরত নুহ (আঃ) ইন্তেকাল করে। হযরত নূহ (আঃ) তিন পুত্র রেখে যান সাম, হাম ও ইয়াফেস। পরবর্তী বানব জাতি নুহ (আঃ) এর উল্লেখিত তিন পুত্রেরই বংশধারা।

আরব ও অনারব এলাকার অধিবাসীরা সামের, ভারত ও হাবশা বাসীরা হামের এবং তুর্কীরা ইয়াফেসের বংশধর ।

to be continue…..

 

 

 

About Shishir

Check Also

আমার পরিচয়

ধর্মীয়বাদ নবী ও রাসূল ************** নবী এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা যাকে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *