সোমবার , অক্টোবর ২৩ ২০১৭ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / আমার পরিচয় [ সৃষ্টিতত্ত্ব ] : ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।

আমার পরিচয় [ সৃষ্টিতত্ত্ব ] : ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।

আমার পরিচয় : সৃষ্টিতত্ত্ব।
হযরত আদম [আ:] সৃষ্টি কাহিনী :
*********************************
আল্লাহ্ তায়ালা জমিন সৃষ্টি করে তাতে জ্বিনদের বসবাস করেতে দিয়েছিলেন। জ্বিনেরা জমিনের উপর থেকে পরস্পরের খুন-খারাপী করে। আল্লাহ তায়ালার নিদের্শে ফেরেশতাগন বিপর্যয় সৃষ্টিকারী জ্বিনদের থেকে জমিন মুক্ত করেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন – হে ফেরেশতা সকল,আমি জমিনে এক খলিফা সৃষ্টি করব। ফেরেশাতগন বলল, আপনি কি এমন সৃষ্টিকে প্রতিনিধি বানাতে চান যে, জমিনে খুন-খরাবী ও বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। আমরাই তো আপনার পবিত্রতা ও প্রশংসা জন্য যথেষ্ট নয়।

আল্লাহ বলেন- আমি যা জানি তোমরা তা জান না। আল্লাহ তায়ালা ফেরশতাদের নির্দেশ দিলেন জমিন থেকে মাটি নিয়ে আস। আল্লাহ্’র হুকুমে ফেরেশতারা সমগ্র দুনিয়া থেকে সংগ্রহীত মাটি সৃষ্টি তায়েফ ও মক্কা শরেিফর মাঝখানে রেখে দেন। তখন আল্লাহ রহমতের বারিধারা বর্ষিত হয়। এতে দুই বছরে সে মাটি কাদায় রুপান্তরিত হয়। চতুর্থ বছরে খনখনে মাটিতে এবং ষষ্ঠ বছরে শুকনা মাটিতে রুপান্তরিত হয়। অষ্টম বছরে হযরত আদম (আঃ) এর আকৃতি তৈরী হয়।আল্লাহ তায়ালার হুকুম হযরত আদম (আঃ) রুহ তৈরি হল।

চার বিশিষ্ট ফেরেস্তা কুলের দায়িত্ব পড়লো যে, তা তার দেহে পৌছিয়ে দিতে। আল্লাহ তায়ালার হুকুমে “রুহ” হযরত আদম (আঃ) প্রবেশ করে। প্রকাশ করতেই- এবার আদম [আঃ] নিজের দেহের প্রতি দেখলেন। এ সময় তাঁর রুহ জোড়া, ডগ সমূহ গোশত হাড় ও অস্থিমজ্জা তৈরি হলো । মোটা কথা সারা শরীরে বাতাসের মত ঘুরতে তাকে।

অতপর আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে ফেরেশতাগন আদম (আঃ) এর আসন জান্নাতুল ফেরদাউসে এনে রাখেন এবং আল্লাহ তায়ালা আদম (আঃ) কে সব প্রকার নেয়ামত দান করেন । কিন্তু তারপরেও হযরত আদম (আঃ) নিংস্বঙ্গ। আল্লাহ্ তায়ালার হুকুমে হযরত আদম (আঃ) এর উপর নিদ্রা চাপিয়ে দেন। আল্লাহ্ তায়ালা জিবরাঈল (আঃ) কে দিয়ে তার বাম পাজরের এক খানা হাড় বেড় করিয়ে আনেন। উক্ত হাড় থেকে আল্লাাহ তায়ালা হযরত হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করেন। এর পর হযরত আদম (আঃ) কে ঘুম থেকে জাগিয়ে হাওয়ার সাথে তাঁর সাখ্যাত ঘটানো হয়।এরপর, আল্লাহ তায়ালার হুকুমে তাদের বিয়ে হয়। তাঁরা জান্নাতে বসবাস করতে থাকে।

আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন হে আদম , তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে যাও এবং এর মধ্যে বসবাস কর, এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে তা উপভোগ কর। কিন্তু ঐ গাছটির কাছেও যেয়োনা, তাহলে তোমারা জালেমদের অন্তভুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু হযরত হাওয়া (আঃ) ইবলীসের মিথ্যা কসমে প্রতারিত হয়ে নিষিদ্ধ বৃক্ষের প্রতি হাত বাড়িয়ে গন্দাকের তিনটি বীচি নিয়ে একটি নিজে খেয়ে দুই হযরত আদম (আঃ) এর জন্য নিয়ে যায়। হযরত হাওয়া (আঃ) হযরত আদম (আঃ) এর জন্য গন্দকের বীচি দুইটি নিয়ে গেলে তিনি জিজ্ঞাসা রলেন-এটা কি বস্তু? হাওয়া (আঃ) বলেন – এটা সে বৃক্ষের ফল, যা খেতে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন। তা হতে আমি একটি খেয়েছি, আর তোমার জন্য ২টি নিয়ে এসেছি। হযরত আদম (আঃ) বলেন, ইহার স্বাদ কেমন। হাওয়া (আঃ) উত্তর করলেন এর স্বাদ মিষ্টি মধুর। সার কথা হচ্ছে যে, হযরত হাওয়া (আঃ) গন্দকের একটি বিচি খেলেন, আর হযরত আদম (আঃ) দুইটি বীচি খেলে ।

এ ঘটনার পর জান্নাতবাসী সকলে বলে উঠেন, আল্লাহ দরবারে হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ) গুণাগার হয়েছে। এর পর, আল্লাহ জানালা হুকুম করলেন তোমরা একে অপরের দুশমন এখান থেকে বের হয়ে যাওয়, এক নিদির্ষ্টি সময় পর্যন্ত তোমাদেরকে দুনিয়ায় অবস্থান এবং কার্যনির্বাহ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, এখানেই তোমাদের জীবন ধারন, মৃত্যবরন এবং পুনরুথান ।

হযরত আদম (আঃ) ভারতের চরনদ্বীপে এবং হাওয়া খোরাসানে নিক্ষিপ্ত হয় । হাওয়ায় (আঃ) গুনাহ থেকে মুক্তী পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত কান্নাকাটি শুরু করেন। অনেকের মতে ৩০০ বছর পর তাদের দোয়া কবুল হয়। হযরত আদম (আঃ) হজ্ব করার উদ্যেশ্যে মক্কা গমন করেন। হযরত আদম (আঃ) আরাফাত ময়দানে জাবালে রহমতের উপর যখন বিশ্রাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে বসেন, তখন দেখতে পান হযরত হাওয়া (আঃ) জেদ্দার দিক থেকে আরাফার ময়দানের দিকে আসছেন।

আদম (আঃ) উঠে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং উভয়ে অঝোর ধারার কাদতে থাকেন। এ সময় হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া [আঃ] আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করেন। আল্লাহ্ তায়ালা তাদের সৃষ্টি হতে পর্দা উঠিয়ে দেন, তখন তাদের দৃষ্টি আল্লাহ আরশের উপর গিয়ে পড়ে। এসময় আদম [আঃ] আরশের কিনারায় কালেমা “ লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্” লেখা দেখতে পান। তিনি বলেন, হে রব। তোমার নামের সঙ্গে যে নাম রয়েছে সে নামের বরকতে আমাকে ক্ষমা কর।

হযরত আদম (আঃ) হজ্জ সফল হলে। আল্লাহ্র হুকুমে হযরত জিবরাইল (আঃ) আদমের পিঠে তোমার পালক মলে দেও। নিদের্শ মতে জিবরাঈল (আঃ) আদম (আঃ) এর পৃষ্ঠে স্বীয় পালক মলে দিলে পৃষ্ঠ দেশ হতে তার অসংখ্যা বংশধর এমন ভাবে বের হয় যে, সমগ্র দুনিয়া তার সন্তান-সন্তানাদি বংশধর বড়ে যায়। আদম ( আঃ) জিজ্ঞাসা করেন, এরা কারা? জিবরাঈল (আঃ) বলেন এরা আপনার বংশধর।

আদম (আঃ) হিন্দুস্থানে এস বসবাস করলে হযরত হাওয়া (আঃ) অন্তঃসত্বা হন এবং এক জোড়া ছেলে মেয়ে প্রসব করেন। তাদের নাম দেন কাবিল এবং মেয়ের নাম ইকলিমা। হাওয়া (আঃ) পুররায় অন্তঃসত্ত্ব হয়। এবারো এক জোড়া ছেলে মেয়ে প্রসব করেন। নাম দেন হাবিল এবং গাযাহ্ ।

আল্লাহ তায়ালা হুকুম করেন, আদম (আঃ) কে কাবিলের জোড়ার মেয়ের সাথে হাবিলের বিয়ে এবং হাবিলের জোড়ার মেয়ের সাথে কাবিলের বিয়ে দিয়েতে বলেন। কাবিলের তা পর্যন্ত না হওয়া সে হাবিল কে হত্যা করে।হাবিলের লাশ হযরত আদম (আঃ) বসবাস করা স্থারে দাফন করা হয়। এক হাজার বছর বয়স ক্রমকালে হযরত আদম (আঃ) ইন্তেকাল করেন।

to be continue…….

About Shishir

Check Also

ভারতে ইসলাম

ভারতে ইসলামের ইতিহাস ইসলামের ভারত বিজয়ের পূর্বেই দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামের আবির্ভাব ঘটেছিল। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *