সোমবার , অক্টোবর ২৩ ২০১৭ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / ধর্ম ও ইতিহাস / আমার পরিচয় : সৃষ্টিতত্ত্ব।

আমার পরিচয় : সৃষ্টিতত্ত্ব।

পয়গম্বরের মনোনায়ন
আমার পরিচয় : সৃষ্টিতত্ত্ব।
***************************
আল্লাহ্ আদমের বংশধর থেকে অনেক পয়গম্বর মনোনীত করলেন এবং তাঁর প্রত্যাদেশ ও বাণী বিশ্বস্ততার সাথে মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য তাঁদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন। কালক্রমে অনেক লোক আল্লাহ্কে দেয়া প্রতিশ্রুতি, পরিবর্তন করে ফেললো এবং আল্লাহ্ও প্রতি কর্তব্য বিষয় ভুলে গিয়ে তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে লাগলো। শয়তান তাদেরকে আল্লাহ্র মা’রেফাত থেকে ফিরিয়ে নিল এবং তাঁর ইবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন করলো।

তখনই আল্লাহ্ তাদের কাছে রাসূলগণকে প্রেরণ করলেন এবং একের পর এক নবী পাঠালেন যেন তাঁরা পূর্ব-প্রতিশ্রুতি পরিপূর্ণ করার দিকে মানুষকে আহ্বান করেন এবং ভুলে যাওয়া নেয়ামত সমূহ স্মরণ করিয়ে দেন; যেন তারা তাবলিগের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহ্ও দিকে প্রণোদিত করেন, যেন তাদের কাছে প্রজ্ঞার গুপ্ত রহস্য উন্মোচন করে দেন এবং আল্লাহ্র কুদরতের নিদর্শন সমূহ যেমন- আকাশ, পৃথিবী তাদের বাাঁচিয়ে রাখার জীবনোপকরন, মৃত্যু, বার্ধক্যেও জরা ও ক্রমান্বয়ে আগত ঘটনা প্রবাহ তাদেরকে দেখিয়ে দেন।

পয়গম্বরগণ এমনভাবে তাঁদের দায়িত্বে অটল ছিলেন যে, তাঁদেও সহচরের সংখ্যাল্পতা বা তাঁদেরকে মিথ্যা প্রমাণকারীর দল অধিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁদেও মিশন থেকে কখনো তাঁরা বিরত হননি এবং কোন কিছুই তাঁদেরকে কর্তব্য থেকে বিরত রাখতে পারেনি। পয়গম্বরগণের প্রত্যেকেই তাঁর পূর্ববর্তী জনের কথা বলে গেছেন এবং পরবর্তী জনের আগমন বার্তা জ্ঞাপন করেছেন।

অনেক হাদিস বিশারদের মতে-
*******************************
হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) বলেছে যে, আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম এক হাজার বছর ধরে নূর মোহাম্মদী (সঃ) সৃষ্টি করেছেন। আর সেই একদিন তোমাদের এই দুনিয়ার হিসাব এক হাজার বছরের সমান। আল্লাহ্ কৃর্তক সৃষ্টি নূর মোহাম্মদী (সঃ) নূর আল্লাহ’র মহত্ত্ব মর্যাদা গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করত এবং আল্লহ্ তসবীহ পাঠ তাওয়াফ ও সজদায় মশগুল থাকত। ইবনে আব্বাস (সাঃ) বার হাজার বছর পর্যন্ত আল্লাহ্ তায়ালার এবাদাতে রত থাকে।

অতঃপর আল্লাহ্ তায়ালা নূরে মোহাম্মদী (সাঃ) কে চার ভাগে বন্টন করে এক ভাগ দ্বারা আরশ , এক ভাগ দ্বারা কলম, এক ভাগ দ্বারা জান্নাত এবং একভাগ দ্বারা আলমে আরওয়াহ ও সমগ্র মাখলুক সৃষ্টি করেন।উল্লেখিত চার প্রকার থেকে তিন প্রকার বের করে আল্লাহ্ তায়ালা জ্ঞান বিবেক, লজ্জা ও প্রেম প্রীতি ভালবাসা এবং এক প্রকার থেকে সম্মানিত সৃষ্টি আমাকে সৃষ্টি করেন। এক হাদীসে রাসুল্লাহ্ (সঃ) বলেন, আমি আল্লাহ্’র সৃষ্টি নূর থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

অতঃপর আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন কলমকে হুকুম করেন আরশের উপর কালেমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্” লেখতে। কলম আল্লাহ্’র হুকুম পেয়ে চার’শত বার মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্ লেখতে থাকে। অতঃপর বৈচিত্র্যময় আকৃতির চার জন ফেরেশতা সৃষ্টি করা হয়। সৃষ্টি চার ফেরেশতার উপর আরশ উঠানোর আদেশ হয়। আদেশ প্রাপ্ত হয়ে তারা সর্বশক্তি দিয়ে আরশ উঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তখন আল্লাহ্ পাকের তরফ থেকে এরশাদ হয়, এই তসবীহ্ পড়ে উঠাও- আমি সেই সত্তার তসবীহ্ পড়েছি যিনি বাদশাহ এবং উধ্বে জগতের মালিক। আমি তসবীহ পাঠ করছি সেই সত্তার, যিনি সম্মান, মহত্ত্ব, মর্যাদা, কুদরত, পূর্ণতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি, বুযুগী এবং গর্ব- অহংকারের মালিক।

আমি তসবীহ পাঠ করছি, সেই জীবন্ত বাদশার যিনি নিদ্রা যান না, যিনি চিরঞ্জীব, তিনি অত্যন্ত পূর্ত-পবিত্র, আমাদের ফেরেশতা কুলের এবং রুই সমূহের প্রভু- পরওয়ার দেগার।আরশ উত্তোলনে নিয়োজিত ফেরেশতাগন আরশের চতুদির্কে ঘুরে তসবীহ পাঠ ও তাওয়াফ করে এবং মোমেন বান্দাদের জন্য ক্ষমা চাইতে পারেন। এরপর, আরশের নীচে মারওয়ারীস পাথরের একটি দানা সৃষ্টি হয়। তা হতে আল্লাহ্ তায়ালা লওহে মাহফুজ তৈরি করেন। লওহে মাহফুজের চারপাশে ইয়াকুত পাথর জড়ানো। লওহে মাহফুজ তৈরি শেষে ,কলমের প্রতি আল্লাহর হুকুম হয় লেখ- আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টিকুল সর্ম্পকে তার এলেম এবং কেয়ামতের পর্ব পর্যন্ত তার সৃষ্টি কুলে অনু পরিমান যা অস্তিত্ব লাভ করবে তার এলেম লেখ।

অতঃপর আরশের নি¤œস্থ মারওয়ারীদের প্রতি নির্দেশ হল প্রসারিত হও তখন সেটি প্রসারিত হয়। এরপর কুরসীর নিচে ইয়াকুতের একটি দানা সৃষ্টি হয়। সৃষ্টির পর আল্লাহ্ তায়ালা যখন সেটির প্রতি তাকান, তখন সেটি আল্লাহর ভয়ে আপনা আপনিই পানি হয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহ্ তায়ালা চুতুমূর্খী বাতাস সৃষ্টির নির্দেশ দিলেন- তোমরা পানির চার কোনায় তরঙ্গ সৃষ্টি করে ফেনা বের কর। নির্দেশ প্রাপ্ত বাতাস সেই করল। এরপর আল্লাহ্র কুদরতে ধোয়াযুক্ত আগুন সৃষ্টি হয়ে সে পানির উপর যায় এবং পানি হতে ধোয়া নির্গত হয়ে, পানি ও কুরসীর মধ্যখানে বাতাসে ছুলতে থাকে।

পানি ও কুরসীর মধ্যকানে ঝুলন্ত ধোয়াকে আল্লহ্ তায়ালা সাত ভাগ করে পানি , তামা, লৈাহা, রোপা, স্বর্ণ, মারওয়ারীদ এবং লাল ইয়াকুত সৃষ্টি করেন। অতঃপর সে পানির এক ভাগ দ্বারা প্রথম আসমান পানি, দ্বিতীয় আসমান তামার, তৃতীয় আসমান লোহার, চুতুর্থ আসমান রৌপ্যের , পঞ্চম আসমান স্বর্ণের, ৬ষ্ঠ আসমান মারওয়ারীদের আর সপ্তম আসমান লাল ইয়াকুতের তৈরী করেন এবং প্রতি আসমানের মধ্যখানে পাঁচ’শ বছরের দূরত্ব সৃষ্টি করেন।

অতঃপর আল্লাহ্ তায়ারা নিজের কুদরতে কুরসীর নীচে সৃষ্ট ইয়াকুত বা মারওয়ারীদে হতে তৈরি পানিতে সৃষ্ট ফেনা থেকে লাল মাটির এক মন্ডপ সৃষ্টি করেন, যেখানে বর্তমান কারা ঘর বিদ্যমান। চার বিশিষ্ট ফেরেশতাকে সে লাল মাটি চার কোনে ছড়িয়ে দেওয়ায় নিদের্শ দিলেন। তারা সেই নির্দেশ পালন করেন এবং জমিন সেই লাল মাটির স্তপ থেকে সৃষ্টি হয়।

to be continue…..

About Shishir

Check Also

আমার পরিচয়

ধর্মীয়বাদ নবী ও রাসূল ************** নবী এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা যাকে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *