সোমবার , অক্টোবর ২৩ ২০১৭ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / ধর্ম ও ইতিহাস / আমার পরিচয় [ সৃষ্টিতত্ত্ব ] : ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।

আমার পরিচয় [ সৃষ্টিতত্ত্ব ] : ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।

আমার পরিচয় : সৃষ্টিতত্ত্ব।
ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।
*******************************
১ম অধ্যায় :
প্রথমে আমরা আলোচনা করবো মহাকাশ ও মানবজাতির সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে- সৃষ্টি তত্ত্ব তিন ভাগে বিভক্ত। যথা :
ক.ধর্ম ভিত্তিক সৃষ্টি তত্ত্ব।
খ.দর্শণ ভিত্তিক সৃষ্টি তত্ত্ব।
গ.বিজ্ঞান ভিত্তিক সৃষ্টিতত্ত্ব।
ক. ধর্মভিত্তিক সৃষ্টি তত্ত্বঃ
***********************
ধর্ম : যে সকল মৌল বিশ্বাস ও কথায় আবহে মানুষ কোনো একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাকে আপন চিত্তে ধারণ করে। সমষ্টির চেতনায় একতাবদ্ধ থাকে এবং ঐ ব্যবস্থার মূল যে শক্তি, তা সে ঈশ্বর হোক, দেব-দেবী হোক অথবা প্রাকৃতিক শক্তি প্রতিভু কিছু হোক তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও সংস্করণের ক্রিয়া-কর্ম কে ধর্ম বলা হয়।

এক কথায় ধর্মকে বলা যেতে পারে “বিশ্বাস ধারণ” এবং এই বিশ্বাস ধারণই মানুষজনকে অভিন্ন কৃত্য ও আচার অনুষ্ঠান সম্পন্নে ও ঐগুলোর প্রতি আন্তুরিকভাবে বিশ্বস্ত থেকে সমষ্টিবদ্ধ হতে অনুপ্রেরণা যোগায়।

পৃথিবীর সকল বস্তুতেই প্রাণ আছে এবং মানুষের মাঝে রয়েছে জন্ম, নিদ্রা, ক্ষুধা, আবেগ, অতিন্দ্রিয়তা, উচ্ছ্বাস এবং দুঃখ ও মৃত্যু একটি পারিপার্শ্বিক শক্তির প্রতি বিশ্বাসী ও নির্ভরশীল হয়ে যায় অতি সংগোপনেই। পারমার্থিক সত্ত্বার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন এবং নির্ভরশীলতাকেই বলেছেন ধর্ম বিশ্বাস।

অর্থাৎ বিশ্ব ও বিশ্বব্রহ্মান্ডের মধ্যকার সকল বস্তু ও প্রাণের স্রষ্টা ও প্রতিপালকের সঙ্গে ব্যাক্তি মানুষের একক ও সামষ্টিক সম্পর্ক স্থাপনের বিধিবিধান প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলা হয় থাকে।
এর কারণ মানুষ স্বপ্নের ইন্দ্রজালে, আবেগের আলোড়নে, অতিন্দ্রিয়তার মোহে এবং দুঃখ ও মৃত্যুর ভয়ে।

আকাশ, পৃথিবী ও মানব সৃষ্টি সম্পর্কে :
***********************************
প্রতিষ্ঠিত প্রশংসা আল্লাহ্র। তাঁর গুণরাজী কোন বর্ণনাকারী বর্ণনা করে শেষ করতে পারে না। তাঁর নেয়ামতসমূহ গণনাকারীরা গুণে শেষ করে পারে না। প্রচেষ্টাকারীগণ তার নেয়ামতের হক আদায় করতে পারে না। আমাদের সমুদয় প্রচেষ্টা ও জ্ঞান দ্বারা তার পরিপূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় এবং আমাদেরও সমগ্র বোধশক্তি দ্বারা তাঁর মহাত্ম অনুভব করা সম্ভব নয়। তাঁর গুণ বর্ণনায় কোন পরিসীমা নির্ধারিত নেই এবং সেজন্য কোন লেখা বা বক্তব্য, কোন সময় বা স্থিতিকাল নির্দিষ্ট করা হয়নি। তিনি নিজ কুদরতে সৃষ্টিকে অস্তিত্বশীল করেছেন, আপন করুণায় বাতাসকে প্রবাহিত করেছেন এবং শিলাময় পাহাড় দ্বারা কম্পমান পৃথিবীকে সুদৃঢ় করেছেন।

আল্লাহ্ও মা’রেফাতই দ্বীনের ভিত্তি। এ মা’রেফাতের পরিপূর্ণতা আসে তাঁকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ায়; সাক্ষ্যের পরিপূর্ণতা হয় তাঁর ঐকল্যের বিশ্বাসে; বিশ্বাসের পরিপূর্ণতা হয় তাঁকে পরম
পর্বিএরূপে নিরীক্ষণ করার জন্য আমল করায়; আমলের পরিপূর্ণতা অর্জিত হয় তাঁর প্রতি কোন গুণ আরোপ না করায়। কারণ কোন কিছুতে গুণ আরোপিত হলে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আরোপিত বিষয় থেকে গুণ পৃথক এবং যার ওপর গুণ আরোপিত হয় সে নিজে সেই গুণ থেকে পৃথক।যারা আল্লাহ্ তে সত্ত্বা বহির্ভূত কোন সিফাত বা গুণ আরোপ করে তারা তাঁর সদৃশতার স্বীকৃতি দেয়; যারা তাঁর সদৃশতা স্বীকার করে তার দ্বৈতবাদের স্বীকৃতি দেয়; যারা তাঁর দ্বৈতের স্বীকৃতি দেয় তারা তাঁকে খন্ডভাবে দেখে; যারা তাঁকে খন্ডভাবে দেখে তারা তাঁকে ভুল বুঝে; যারা তাঁকে ভুল বুঝে তারা তাঁকে চিনতে অক্ষম; যারা তাঁকে চিনতে অক্ষম তারা তাঁর ত্রুটি স্বীকার করে; যারা তাঁর ত্রুটি স্বীকার করে তারা তাঁকে সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ করে।

যদি কেউ বলে তিনি কি, সে জেনে রাখুক, তিনি সবকিছু ধারণ করে আছেন; এবং যদি কেউ বলে তিনি কিসের ওপর আছেন, সে জেনে নাও, তিনি নির্দিষ্ট কোন কিছুর ওপর নেই। যদি কেউ তার অবস্থিতি নির্দিষ্ট কোন স্থানে মনে করে তবে সে কিছু কিছু স্থানকে আল্লাহ্ বিহীন মনে করলো। তিনি ওই সত্ত্বা যাঁর আগমন সৃষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে নি। তিনি অস্তিত্বশীল, কিন্তু অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আসেন নি। তিনি সব কিছুতেই আছেন, কিন্তু কোন প্রকার ভৌত নৈকট্য দ্বারা নয়। তিনি সব কিছু থেকে ভিন্ন, কিন্তু বস্তুগত দ্বান্দিকতা ও বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে নয়। তিনি কর্ম সম্পাদন করেন কিন্তু সঞ্চলন ও হাতিয়ারের মাধ্যমে নয়। তিনি তখনও দেখেন যখন তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কেউ দেখার মতো থাকে না। তিনিই একমাত্র একক, কেন না এমন কেউ নেই যার সাথে তিনি সঙ্গ রাখতে পারেন অথবা যার অনুপস্থিতি তিনি অনুভব করেন ।

নিখিল বিশ্ব সৃষ্টি :
******************
তিনি সৃষ্টির সূত্রপাত করলেন একান্তই মৌলিকভাবে- কোন প্রকার প্রতিরূপ ব্যতীত, কোন প্রকার পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যতীত, কোনরূপ বিচলন ব্যতীত এবং ফলাফলের জন্য কোনরূপ ব্যাকুলতা ব্যতীত। সব কিছুকে তিনি নির্দিষ্ট সময় দিলেন, তাদের বৈচিত্র্যে সামঞ্জস্য বিধান করলেন এবং তাদের বৈশিষ্ট্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন। সৃষ্টির পূর্বেই তিনি সব কিছুর প্রবণতা, জটিলতা, সীমাবদ্ধতা ও দূর্বলতা সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন। এরপর পবিত্র সত্ত্বা অনন্ত শূণ্য সৃষ্টি করলেন এবং প্রসারিত করলেন নভোমন্ডল ও বায়ুস্তর। তিনি উচ্ছ্বল তরঙ্গবিশুদ্ধ পানি প্রবাহিত করলেন। তরঙ্গগুলো এত ঝঞ্ঝা- বিশুদ্ধ ছিল যে, একটা আরেকটার ওপর দিয়ে গড়িয়ে যেতো। তরঙ্গ স্রোতের সাথে তিনি প্রবল বায়ুপ্রবাহ যুক্ত করলেন এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রকম্পন সৃষ্টি করলেন। পানির বাষ্পীয় অবস্থাকে তিনি বৃষ্টিরূপে পতিত হবার নির্দেশ দিলেন এবং বৃষ্টির প্রাবল্যের ওপর বায়ুকে নিয়ন্ত্রণাধিকার দিলেন। মেঘের নিচে বাতাস প্রবাহিত হতে লাগলো এবং পানি বাতাসের ওপর প্রচন্ড বেগে প্রবাহিত হতে লাগলো।

এরপর সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ বাতাস সৃষ্টি করে তাকে নিশ্চল করলেন, তার অবস্থান স্থায়ী করলেন, তার গতিতে প্রচন্ডতা দিলেন এবং তাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিলেন। তারপর তিনি বাতাসকে আদেশ করলেন গভীর পানিতে গতিশীল ও চঞ্চল এবং সমুদ্র তরঙ্গকে তীব্রতর করার জন্য। ফলে বাতাস তৈরীর মতো পানিকে মন্থন করতে লাগলো এবং এমন জোরে মহাশূণ্যে প্রক্ষেপ করলো যে- সম্মুখে পশ্চাতে ও পশ্চাত সম্মুখে চলে গেলো। এতে ওপরের স্তরে বিপুল ফেনপুঞ্জ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত স্থিরকে অস্থির করে রাখলো। সর্বশক্তিমান তখন ফেনপুঞ্জকে অনন্ত শূণ্যে উত্তোলন করে তা থেকে সপ্তআকাশ সৃষ্টি করলেন যার সর্বনিম্ম স্তর স্ফীত অথচ অনড় এবং ওপরের স্তর আচ্ছাদনের মতো বিদ্যমান- যেন এক সুউচ্চ বৃহৎ অট্টালিকা যাতে কোন স্তম্ভ নেই অথবা একত্রে জোড়া লাগাবার পেরেক নেই। তখন তিনি ওপরের স্তরকে তারকা ও উজ্জ্বল উল্কা দিয়ে সুশোভিত করলেন এবং আবর্তিত আকাশ, চলমান, আচ্ছাদন ও ঘূর্ণায়মান নভোমন্ডলে তিনি দেদীপ্যমান সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্রকে স্থাপন করলেন।

ফেরেশতা সৃষ্টি :
***************
পরম বিধাতা বিভিন্ন আকাশের মধ্যে উন্মুক্ততা বিধান করলেন এবং বিভিন্ন শ্রেণির ফেরেশতা দ্বারা সেই উন্মুক্ততা পরিপূর্ণ করলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রুকু অবস্থায়, যারা কখনো দাঁড়ায় না এবং কেউ কেউ সুবিন্যস্তভাবে অবস্থান করছে, যারা কখনো তাদের স্থান পরিত্যাগ করে না। অন্যরা সর্বক্ষণ আল্লাহ্র তসবিহ্ পাঠ করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না। নয়নের নিদ্রা, বুদ্ধির বিভ্রান্তি, শরীরের অবসন্নতা অথবা বিস্মৃতির প্রভাব এদেরকে স্পর্শও করে না।

ফেরেশতাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর বিশ্বস্ত অহিবাহক, যারা নবিদের কাছে আল্লাহ্র মুখপাত্র হিসাবে কাজ করে এবং তাঁর আদেশ নির্দেশ কে সর্বত্র পৌঁছে দেয়। কেউ কেউ আল্লাহ্ সৃষ্টি রক্ষার কাজে নিযুক্ত। আবার কেউ কেউ বেহেশ্তের দরজায় প্রহরী হিসেবে নিযুক্ত। তাদের নিজেদেও মধ্যে এবং অন্য সকল কিছুর মধ্যে সম্মনিত পর্দা ও কুদরতের আবরণ সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা তাদের মহান সূষ্টার আকৃতি মাধ্যমে ধারণ করে না। তারা সৃষ্টার প্রতি সৃষ্টির কোন গুণারোপ করে না, তাঁকে কোন নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবব্ধ করে না এবং উপমার মাধ্যমে তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করে না।

নূরে মুহাম্মদী [স:]-এর সৃষ্টি কাহিনী:
*********************************
হযরত ইমাম হোসাইন [রা:] থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হযরত আলী [রা]-কে বলতে শুনেছেন: তিনি বলেন, একদিন আমি হযরত রাসূলুল্লাহ [স:]-এর কাছে বসা ছিলাম,এই সময় হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী [রা:] এসে হযরত রাস্লূুল্লাহ [স:]-কে জিজ্ঞাসা করলেন,ইয়া রাসূলুল্লাহ [স:] -আমার মা-বাপ আপনার জন্য কোরবান হোক। আমাকে বলুন,সর্বপ্রথম আল্লাহ তাআলা কোন বস্তু সৃষ্টি করেছেন। রাসূলুল্লাহ [স:] এরশাদ করেন,আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম এক হাজার বছর ধরে আমার নূর সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্ট আমার নূর আল্লাহর মহৎ মর্যাদা গভীরভাবে পর্যবক্ষন করত এবং আল্লাহর তসবীহ পাঠ, তাওয়াফ ও সজদায় মশগুল থাকত।

to be continue…

About Shishir

Check Also

আমার পরিচয়

ধর্মীয়বাদ নবী ও রাসূল ************** নবী এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা যাকে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *