সোমবার , অক্টোবর ২৩ ২০১৭ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / ধর্ম ও ইতিহাস / আমার পরিচয় [ সৃষ্টিতত্ত্ব ] : ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।

আমার পরিচয় [ সৃষ্টিতত্ত্ব ] : ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।

আমার পরিচয় : সৃষ্টিতত্ত্ব।
ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান অনুসারে।
********************************
আমরা মহাবিশ্বের অধিবাসী। পৃথিবী আমাদের জন্ম ভূমি। প্রাণী হিসেবে আমরা মানুষ [human] । পৃথিবীতে মানুষই শ্রেষ্ঠ প্রানী। কেননা মানুষ বুদ্ধিমান এবং ক্ষমতাবান। বুদ্ধি ও ক্ষমতার বলে মানুষ জীবকুলের উপর প্রাধাণ্য বিস্থার করেছে। প্রকৃতিকে জয় করে এক উন্নত সামাজিক জীবন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। খাদ্যের জন্য মানুষকে আর বন্যপশুর পেছনে ছুটতে হয় না। কিংবা প্রকৃতিজাত ফলমূলের উপরে ও নির্ভর করতে হয় না। পৃথিবীর বুক চিরে সে নিজের উৎপাদন করতে শিখেছে। মানুষ আজ বস্ত্র পরিধান করে। আগুন ও বিদ্যুৎ এর ব্যবহার শিখেছে। দুরত্বকে জয় করতে শিখেছে এবং রেডিও- টেলিভিশন, কম্পিউটারের মত অতি আশ্চর্য সব আবিস্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞান ভিত্তিক এক সভ্যতার অধিকারী হয়েছে।

মানুষের দেহ-মন মগজের শক্তি, যে অশেষ তা আমরা আজ কাল বিজ্ঞানী, দার্শনীক, যন্ত্র আবিস্কার, উদ্ভাবক ও সামগ্রী নির্মাতা প্রমুখের অবদান দেখেই, জানতে ও বুঝতে পারি। মনে হয় মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। চেষ্টা করলেই ধৈর্য্য, অধ্যবসায় ও মগজী শক্তি প্রয়োগে মানুষ আপাতদৃষ্টিতে যা কিছু অসাধ্য তাও এক সময়ে অতি সহজে করতে পারবে। আর দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও প্রয়োগের অনুশীলনে বিস্ময়কভাবে নানা আপাত অসম্ভব কর্মে যাদুকরের মত সাফল্য অর্জন যে সম্ভব হয়েছে, তা দেখে জেনে বুঝে আমরা মানুষের শক্তি যে অসীম তা অনুভব ও উপলব্দি¡ করি। তারপরেও বিজ্ঞান বা জ্ঞানের অনেক সীমাবদ্ধ আছে। অনেক কিছু আজও রহস্য রয়ে গেছে।

মানবজাতি আদি কাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের নিয়ম মেনে চলছে।এই নিয়ম গুলি প্রকিৃতগত ভাবে চলে আসছে। যথা-বৃষ্টি হওয়া, বর্ষা হওয়া, খরা হওয়া ও ভৃমিকম্প হওয়া ইত্যাদি। আদি কাল থেকে চলে আসা এই নিয়ম গুলিকে, আমরা রিভিন্ন ধরনের নাম দিয়েছি যেমন-সমাজবদ্দতা, ধর্মীও অনুশাসন এব; শাসনতান্তিক বিভিন্ন নাম দিয়েছি। আবার আমরা আধুনিক কালে এই ধরনের বিভিন্ন নিয়ম কাননকে, বিভিন্ন ধরনের তত্ত্বীয় নামে পেয়েছি।বিবতর্নের ধারাবাহিক পর্যায় পার হয়ে,এই তত্ত্বীয় নিয়মগুলি বর্তমানে আমাদের কাছে উপস্হিত আছে।মানবজাতির প্রয়োজনে বিভিন্ন পরিবর্তনের ফলে তা আমাদের সুবিধা করছে। মানবজাতির এই শিখা পদ্ধতিকে, আমরা এক কথায় বলি জ্ঞান । জ্ঞানকে আমরা মৃল ধরে,এর বিভিন্ন শাখা নিয়ে আলোচনা করবো এব; সমাজ ও প্রকৃতি এর মূল ভিওি। যা জীব ও পদার্থের রুপান্তরের ফলে সমাজ ও প্রকৃতির অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়ম মেনে চলে। প্রকৃতির নিয়ম ইচ্ছা করলেই পরিবর্তন করা যায় না, করলেও তা সাময়িক।

প্রকৃতিগত এই নিয়ম আবার বিজ্ঞান মেনে চলে বা এমনভাবে তৈরি হয়েছে বা করা হয়েছে যেন তা প্রকৃতিকে মেনে চলে।অতএব বলা যায় যে, প্রকৃতি ও বিজ্ঞান একটি আরেকটির বন্ধু,শত্রু নয়। কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে তার বিপরীত দৃশ্য দেখা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, বিজ্ঞান প্রকৃতিকে মেনে চলে বা প্রকৃতি বিজ্ঞান মেনে চলে। প্রকৃতির এই নিয়ম ইশ্বর তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীদের মতে ইশ্বর প্রকৃতিকে তার নিজস্ব নিয়মে চলতে দেয় এবৎ ইশ্বর তাতে হস্তক্ষেপ করে না। মাঝে মাঝে জীবকুলের কারণে তার ব্যাতিক্রম ঘটে।

জ্ঞানের আলোচনা করতে গেলেই আমার মনে পড়ে সেই বিজ্ঞ লোকের উক্তিগুলো। তেরোর্শ বছর আগে প্রাচীন চীন দেশের একজন পরিব্রাজক এসেছিলেন ভারতবর্ষে জ্ঞান অন্বেষন করতে। জ্ঞানের প্রতি তাঁর এত প্রবল আগ্রহ ছিল যে, উত্তর দিকের কত শত পাঁহাড় পর্বত নদ-নদী, মরুভূমি অতিক্রম করে বহু সংকটে, অনেক বাধা তুচ্ছ করেও তিনি এসেছিলেন। তার নাম হল হিউয়েন সাং।আজকাল যে, শহরের নাম পাটনা, পুরো কালে তারাই নাম ছিল পাটালিপুত্র, সেই পাটালিপুত্রের নিকটবর্তী ছিল নালন্দ বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি নালন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুকাল অধ্যায়ন ও অধ্যাপনা করেছিলেন। তার জ্ঞান অভিজ্ঞতা ও বৌদ্ধ নীতি শাস্ত্রে তার অসামান্য অধিকার থাকার দরুন তাকে “ নীতিবিশারদ” আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেকালে ভারত বর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে যারা বসবাস করতেন, তাদের আচার-ব্যবহার রীতিনীতি পর্যবেক্ষন করে তিনি এক ভ্রমন কাহিনী লিখেছিলেন। তা পরবর্তীতে ভারত বর্ষের ইতিহাসের অনেক কাজে আলোচিত হয়।আমার যে ঘটনার উক্তি গুলো মনে হয়েছে, সেটা তার ঐ বই এর ঘটনার উক্তি।এই ঘটনার বর্নিত বিজ্ঞ লোকটি ছিলেন ভারত বর্ষের দক্ষিণী লোক। তিনি কর্নসুবর্ন নগরীতে বাস করতেন, তাঁর মাথায় বাঁধা থাকত একটি জ্বলন্ত মশাল, তাঁর কোমর থেকে উদর অবধি ঢাকা থাকত তামার পাত্র, লম্বা পা ফেলে হাতে প্রকান্ড একটি লাঠি নিয়ে বুক ফুলিয়ে তিনি বেড়াতেন। লোকে প্রশ্ন করলে বলতেন, তাঁর অগাধ জ্ঞান পেটফেটে বেড়িয়ে যেতে পারে। এই ভয়েই ওরকম ব্যবস্থা করতে হয়েছে। অজ্ঞ ও অন্ধকারে যারা পথ খুজে হাতড়ে বেড়াচ্ছে তাদেরই জন্যে তিনি মশাল ধরে ধাকেন। এই রকম ছিল তার জবাব। ভাগ্যিস আমার অঅগাধ জ্ঞান নেই, কাজেই আমার বর্যে চর্মের কাজ নেই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, উপদেশ দিয়ে যতটা না হোক আলাপ আলোচনায় তার চেয়ে অনেক বেশি সহজে ভাল-মন্দ কর্তব্যটুকু নির্ধারণ করা যায়।

আধুনিক সভ্যতা এবং আধুনিক বিজ্ঞান নিয়ে অনেক অর্থহীন গর্ব অনুভব করেন। বিজ্ঞানীরা এখনও পর্যন্ত অনেক কিছু সম্ভম করেছেন এবং সে জন্য তারা আমাদের কাছে সম্মানের পাত্র, তবে বড়াই করতে যাবার আগে এ কথাটাও একবার ভেবে দেখা ভালো যে, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের সভ্যতা পশুদের চেয়েও নিকৃষ্ঠ হয়ে আছে।

মৌমাছি ও উইপোকা সমাজ সংগঠনের কথা আমরা জানি। প্রানীজগতে এদের তুচ্ছ এবং নগন্য মনে করি, তবু এদের একতা এবং ব্যাক্তিকে সমষ্টির কাছে উৎসর্গ করা দেখে মানুষের সমাজ অনেক কিছু শিখতে পারে। বহর জন্যে উইপোকার অাত্মহতির কথা যেদিন শুনেছি সেদিন থেকেই যেন তাকে ভারবেসে ফেলছি। সমাজের জন্য ত্যাগ স্বীকার এবং সমবেত প্রচেষ্টা যদি সভ্যতার নিদর্শণ হয়। তবে পিপড়াদের সভ্যতা আমাদের সভ্যতার চেয়ে অনেক ভাল। প্রাচীন গ্রন্ত্রে কিছু উক্তি আছে। যার অনুবাদের সারমর্ম এ রুপ-
“পরিবারের জন্য ব্যক্তিকে, সমাজের জন্য পরিবারকে, দেশের জন্য সামজকে এবং আত্মার জন্য সমগ্র জগৎকে বর্জন করবে।”

মানুষ যখন বুঝতে শিখলো এবং ভাবতে শিখলো তখন থেকেই একটা প্রশ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে-আমি কে, আমি কি? আপনাকে জানায় এই আকৃতির মানুষের চিরকালের। পৃথিবীকে জানা, গ্রহ, নক্ষত্রখচিত মহাকাশ তথা সমগ্র প্রকৃতিকে জানা ও প্রকৃতি কি, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কি, জীবন কি, সৃষ্টি কি, সৃষ্টির পরিণতি কোথায় ইত্যাদি সব প্রশ্ন তাই মানব মনের চিরন্তন জিজ্ঞাসা।

সভ্যতার উষা কাল থেকে মানুষ এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে আসছে কখনো ধর্মকামী হয়ে, কখনো দার্শনিক হয়ে, আবার কখনো বিজ্ঞানী হয়ে।

ধর্ম-
বিশ্বাস নির্ভর। ধর্মকামীরা মনে করে, মানুষের পক্ষে প্রকৃত সত্যকে জানা কখনোই সম্ভব নয়।তাদের বিশ্বাস, পৃথিবীতে যুগে যুগে পরম সত্যের বার্তাবাহী পুরুষের আবির্ভাব ঘটে। তাদের জন্যই চিরন্তন এবং চরম ও পরম সত্য। যাদের প্রদর্শিত পথই সত্যের পথ।

দর্শন

******

দার্শনিকেরা সত্য সন্ধানী, যুক্তি নির্ভর। দার্শনিকেরা মনে করেন, বিশুদ্ধ মনন চর্চা এবং যুক্তিবাদের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্যে উপনীত হওয়া যায়।

বিজ্ঞান

********
বৈজ্ঞানিকেরা সত্য সন্ধানী, আধ্যাত্মবাদী এবং দার্শনিক কিংবা ধর্মকামীর সত্য সন্ধান থেকে আলাদা। পার্থক্যটা দৃষ্টিভঙ্গি নির্ভর।

ধর্ম এবং দর্শন, বিজ্ঞানের চেয়ে অনেক প্রাচীন। বিজ্ঞান কয়েক শতক দূরে আলোচনা এসেছে।

to be continue..

About Shishir

Check Also

আমার পরিচয়

ধর্মীয়বাদ নবী ও রাসূল ************** নবী এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা যাকে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *