সোমবার , অক্টোবর ২৩ ২০১৭ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিতকল্পে ফিরে আসা।

ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিতকল্পে ফিরে আসা।

একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাতার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজভূমে ফিরে এসেছিলেন। পুরো পরিবারসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বিদেশে থাকায় বেঁচে যাওয়া তার ২ কন্যার প্রবাস জীবন বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। একদিকে দেশে আসতে না পারা, অন্যদিকে জীবনের প্রতি হুমকি। সব মিলিয়ে দুঃসহ জীবনের মধ্যে বেঁচে থাকা ছিল তাদের। এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই দায়িত্বভার গ্রহণ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জীবন নিয়ে সব শঙ্কাকে তুচ্ছ করে নিজ দেশে তিনি ফিরে আসেন।

বঙ্গবন্ধুর দেশে ফিরে আসাটি আমাদের ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছে। যার ফলে কম-বেশি অনেকের সেই ঘটনা জানার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এখনো সাধারণের জানার বাইরে আছে। অথচ এই ফিরে আসাটিও আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য বিশাল গুরুত্ব বহন করে। কারণ শেখ হাসিনা ফিরে এসেছেন বলে এ দেশের মানুষ ‘ভোট ও ভাতের অধিকার’ ফিরে পেয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক দেশে অবৈধভাবে মতায় থাকা সেনাশাসক মতাচ্যুত হয়েছে। শেখ হাসিনা ফিরে এসেছেন বলেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যায়িত বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিতি পেয়েছে। গেল বছর বাংলাদেশ সফরে এসে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু মন্তব্য করেছেন, ‘এশিয়ার উদীয়মান বাঘ বাংলাদেশ।’

দেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের যে সংকল্প নিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন, তাতে প্রধান বাধা ছিল স্বৈরশাসন। সেই থেকে স্বৈরতন্ত্রকে হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে তিনি রাজপথে সোচ্চার ছিলেন। অনেক সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। তার পর বিএনপি মতায় এসে নেতৃত্বের চরম অদতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে যে প্রত্যাশা দীর্ঘদিন লালন করে এসেছে তা তিমিরেই থেকে গেল। দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতা মাথায় নিয়ে বিএনপি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে চরমভাবে হেরে গেছে আওয়ামী লীগের কাছে। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কোনো রাজনৈতিক বচন নয়, ইতিহাস স্যা দেয়, সেই সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুণগত একটি পরিবর্তন আসে।

২০০১-এ বিএনপি মতায় এসে দেশের ইতিহাসে কলঙ্কজনক আরেকটি ইতিহাসের জন্ম দিল। গাড়িতে লাল-সবুজের পতাকা ব্যবহারের দায়িত্ব অর্পণ করল তারা, যারা এ দেশের স্বাধীনতায় বিরোধিতা করেছিল; ৩০ লাখ শহীদের রক্তে যাদের হাত রঞ্জিত হয়েছিল। দেশের পুরনো শত্রু জামায়াত নিজেদের মতায় পোক্ত করার জন্য দেশকে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার মানসে দেশব্যাপী জঙ্গি চাষাবাদ শুরু করে। সেই প্রমাণগুলো সবার সামনে স্পষ্ট। এ দেশে বাংলা ভাই, শায়খ আবদুর রহমান নামের জঙ্গি নেতার আবির্ভাব ঘটেছে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী একই দিন একই সময়ে ৫০০ বোমা হামলা করে নিজেদের শক্ত অবস্থান তারা জানান দিয়েছিল। অন্যদিকে দেশের তরুণ প্রজন্ম স্বাধীনতা বিরোধীদের রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখে মেনে নিতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করা শিতি ও বুদ্ধিজীবী সমাজ তারাও প্রতিবাদমুখর হয় যুদ্ধাপরাধীরা যাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থেকে বিতাড়িত হয়। কারণ তারা স্পষ্টই বুঝতে পেরেছেন, দেশকে সেই চক্র একটি অন্ধকার গলিতে নিয়ে যাচ্ছে। সময় থাকতে সেখান থেকে বের হতে না পারলে পরবর্তী সময়ে দেশকে সঠিক পথে ফিরে আসতে অনেক বেগ পেতে হবে।

জনগণের এই প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ম্যান্ডেট দিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান আওয়ামী লীগ। এর পর আরেকটি অগণতান্ত্রিক সরকারের দুই বছরের দেশ শাসনে মূলত দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ধাক্কা লেগেছে। গতিহীন দেশে সার্বিক শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচার করেছেন, দেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার করছেন। দেশের জনগণ বিশ্বাস করে, শেখ হাসিনা যদি দেশে না আসতেন তাহলে এদের বিচার কোনোদিন কেউ এই মাটিতে করার সাহস পেতেন না, শেখ হাসিনা বলেই পেরেছেন; আর বিচার না হলে এই বীরের জাতিকে ইতিহাসে কলঙ্ক নিয়েই বেঁচে থাকতে হতো। এই বিশ্বাসটি সেই অপরাধী চক্রেরও; তাই তো তারা প্রথমেই চায়নি শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক। আর যখন ফিরে এসেছেন তখন ওই ভয় তাদের তাড়া করে; যার ফলে তারা শেখ হাসিনাকে অসংখ্যবার হত্যার চেষ্টা করেছেন।

২০০৮-এর জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছিল তারুণ্যের একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ এবং ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে নিয়ে যাওয়া। সেই রূপকল্প বাস্তবায়ন রাজনৈতিক কোনো কথার ফুলঝুরি নয়; আজ তা প্রমাণিত সত্য। ডিজিটালের সুফল ভোগ করছে দেশের জনগণ। হাতের মুঠোয় এখন সবকিছু। বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। মাথাপিছু আয় এখন ১৬০২ ডলার; জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.২৪ শতাংশ। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে তার ভিশন সফলতার দিকে অতিক্রম করছে, সেই ইঙ্গিত আমরা ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছি। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এই তথ্য জেনে দৃঢ় নেতৃত্বের অধিকারী শেখ হাসিনা প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, তার দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তিনি দেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করতে পারবেন। এই অঙ্গীকার রক্তেরই ধারাবাহিকতা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের দৃঢ়তায় এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর তার কন্যার নেতৃত্বের দৃঢ়তায় পরিবর্তন আসবে দেশে। আমাদের এই স্বপ্ন, বিশ্বাস এবং এতটুকু যে অর্জন তা কেবল শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছেন বলেই সম্ভব হয়েছে

About Shishir

Check Also

আমার পরিচয়

ধর্মীয়বাদ নবী ও রাসূল ************** নবী এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা যাকে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *