সোমবার , নভেম্বর ২০ ২০১৭ | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ।

ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও কার্যের ভারসাম্য:
স্বশাসন ও সুশাসনের জন্য বিকেন্দ্রীকরণ
*******************************************
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও কার্যের ভারসাম্য: স্বশাসন ও সুশাসনের জন্য বিকেন্দ্রীকরণ :
– বিজ্ঞানের সনাতনী ও ধ্রুপদী আলোচনায় রাষ্ট্রের মূল তিনটি অঙ্গ তথা আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে ক্ষমতা বিভাজনের বিধান যেমন স্বীকৃত, তেমনিভাবে পারস্পরিক সম্পূরক ও পরিপূরক সম্পর্ক বিবেচনায় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থারও বিভিন্ন রূপ ও কাঠামো বিদ্যমান।

এভাবে আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন (Law making), শাসন বিভাগ আইনের বাস্তবায়ন (Execution) এবং বিচার বিভাগ আইনি প্রতিবিধান ও আইনের ব্যাখ্যা (Adjudication) প্রদানের জন্য সংবিধান নির্দেশিত পথে স্ব স্ব অধিক্ষেত্রের মধ্যেই আরোপিত কার্যাদি সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতার অধিকারী হয়।

এটি বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্যাদি সম্পাদনের ধ্রুপদী চিত্র। তবে চিত্রটি বিশ্বের সর্বত্রই একই রকম নয়। দেখা যায়, ক্ষমতা পৃথকীকরণের সাংবিধানিক অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও তিনটি অঙ্গের বিভাজন রেখার প্রতি সম্মান রেখে ক্ষমতা প্রয়োগে ‘ভারসাম্য’ প্রায়ই বিঘ্নিত হয়।

এজন্য দেশে দেশে দর্শনগত দিক থেকে অধিকতর ‘গণতন্ত্রায়ন’ (তথা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, জনসম্পৃক্ততা) এবং গণতন্ত্রের চর্চা ও জনসম্পৃক্ততার নীতিকে অধিকতর কার্যকর করার উপায় হিসেবে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য গণতন্ত্রের বাস্তব প্রায়োগিক সাফল্যের কৌশল হিসেবে ‘বিকেন্দ্রায়ন’ বা ‘বিকেন্দ্রীকরণ’কে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবিধান হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

বিকেন্দ্রায়নের বৃহত্তর যৌক্তিকতা: বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্যের নিরিখে এর যৌক্তিকতাকে নিম্নলিখিত কয়েকটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা যেতে পারে:
১. ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য বিকেন্দ্রীকরণ (এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, ভৌগোলিক-আঞ্চলিক বিভিন্নতা ও পশ্চাত্পদতা ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়);
২. অধিকতর গণতন্ত্রায়নের জন্য বিকেন্দ্রীকরণ;
৩. সমতা ও জনমুখী সেবার জন্য বিকেন্দ্রীকরণ;
৪. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য বিকেন্দ্রীকরণ;
৫. জনসম্পৃক্ততা, সমতায়ন ও গণক্ষমতায়নের জন্য বিকেন্দ্রীকরণ;
৬. স্বশাসন ও সুশাসনের জন্য বিকেন্দ্রীকরণ এবং
৭. প্রশাসনিক ও অর্থব্যবস্থার দক্ষতার জন্য বিকেন্দ্রীকরণ।

বিশ্বে উল্লিখিত সাতটি যৌক্তিকতার যেকোনো এক বা একাধিক অথবা সম্মিলিতভাবে সবগুলো সামনে রেখেই বিকেন্দ্রীকরণ নীতি প্রণীত হতে দেখা যায়। বিকেন্দ্রীকরণ কী: বিকেন্দ্রীকরণের বহুতর সংজ্ঞা বিদ্যমান। বেশির ভাগ সংজ্ঞায় দেখা যায়, ওপর থেকে নিচে ক্ষমতার প্রবাহ হস্তান্তর বা স্থানান্তরকে বিকেন্দ্রীকরণ বোঝানো হয়। বাস্তব প্রায়োগিক অভিজ্ঞতায় তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। ‘ক্ষমতা’ (power), কর্তৃত্ব (authority), কখনো ‘সম্প্রদান কারক’ নয়। স্বত্ব ত্যাগ করে কোথাও কেউ ক্ষমতা দিয়ে দেয় না। ক্ষমতার সম্প্রসারণ, বিকাশ ও ভাগাভাগি হয় মাত্র।

বিকেন্দ্রায়ন ক্ষমতা-সম্পর্কের একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করে এবং ক্ষমতার কেন্দ্রের সংখ্যা ও ব্যাপ্তি বাড়িয়ে দেয়। চূড়ান্ত বিকেন্দ্রীকরণ বলে বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা নেই। এটি একটি প্রক্রিয়া, যার কোনো সর্বশেষ বা সমাপ্তি বিন্দু নেই। এর শুরুর বিন্দু আছে ঠিকই, এটি ক্রমাগত প্রসারণশীল। কারণ মানুষের ক্ষমতা ও সৃজনশীলতার কোনো শেষ নেই। এটি একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া। অনেকে আবার ‘বিকেন্দ্রীকরণ’-এর স্থলে ‘বিকেন্দ্রায়ন’ প্রত্যয় ব্যবহারকে বেশি পছন্দ করেন। তাতে তার চলমানতা ও গতিশীলতাকে সঠিকভাবে ধারণা করা যায়।

ক্ষমতা কী: ক্ষমতার প্রয়োজন ও প্রয়োগের স্বরূপ কেমন হয় বা হবে— এটি একটি অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্ন। আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার সঙ্গে ‘বৈধ বল প্রয়োগ’-এর বা বাধ্যবাধকতার একটি সম্পর্ক যেমন থাকে, তেমনি থাকে স্বাভাবিক, স্বতঃস্ফূর্ত বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরোপিত, অর্জিত বৈধতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা। ইংরেজিতে ‘পাওয়ার’ ও ‘অথরিটি’ দুটি শব্দ জড়াজড়িভাবে কিংবা পৃথকভাবে ব্যবহার হয়।

পাওয়ার প্রায়ই আইনগত বৈধতা এবং অথরিটি আইনের বাইরেও বিষয় ও বৈষয়ী বৈধতা নির্দেশক। আইন বা বিধি বা বিধিসম্মতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হয়েও আইনের একজন পণ্ডিত বা আইনজ্ঞের ব্যাখ্যার গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে। কিন্তু প্রচলিত আদালতের ব্যাখ্যার আইনি বাধ্যবাধকতা ও গ্রহণযোগ্যতা ভিন্নভাবে দেখতে হবে। পণ্ডিতের ব্যাখ্যা প্রয়োগযোগ্য হবে না। কিন্তু ফেলে দেয়াও যায় না। একটি বিকেন্দ্রায়িত সমাজের উভয়ের গুরুত্ব থাকে এবং তাতে সর্বক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষিত হয়।

বাংলাদেশ প্রাচীন জাতির নবীন রাষ্ট্র: বাঙালি একটি প্রাচীন জাতি, কিন্তু বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্র কাঠামোটি অপেক্ষাকৃত নবীন। এ জাতির অস্থিমজ্জায় ও মন-মস্তিষ্কে গণতান্ত্রিক চেতনা, আত্মপ্রকাশের দুর্বার আকাঙ্ক্ষা। বলা, লেখা ও চিন্তার স্বাধীনতা তার শ্বাস-প্রশ্বাসের বায়ু থাকে না।

About Shishir

A positive person can be change the society.

Check Also

জাগো বিক্রমপুর বিক্রমপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য : পর্ব-01

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর বহু কীর্তিমান মনীষির স্মৃতিধন্য মুন্সিগঞ্জ জেলা । এ জেলার প্রাচীন নিদর্শনসমূহের সাথে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *