সোমবার , অক্টোবর ২৩ ২০১৭ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / অর্থনীতি / মহান মে দিবস : শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাস

মহান মে দিবস : শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাস

্ত
মানব সভ্যতার ইতিহাস শ্রমজীবি মানুষের মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাস। শুধু অধিকার আদায়ের ইতিহাসই নয়। নিজের নিপুণ কারুকার্যে শ্রমিক শ্রেণী গড়ে তুলেছে এক অভিস্বরণীয় বিশ্ব সভ্যতা। তাই যুগে যুগে শ্রমিক শ্রেণীর লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস, সভ্যতা বদলের ইতিহাস। পৃথীবির সমস্ত সমৃদ্ধির সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা পৃথীবির সমস্ত অর্জনের ‘সমান’ অধিকারী।

জানা যায়, ৮ ঘন্ট শ্রম, ৮ ঘন্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘন্টা বিনোদনের ব্যাবস্থা। শ্রমিকের ২৪ ঘন্টার হিসাব ছিল এটাই, আর এই অধিকার চাওয়ায় প্রাণ দিতে হলো, জেল হলো, ফাঁসি হলো। আধুনিক ধনবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার গোড়ায় ‘সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত’ এই ছিল শ্রমিকদের কাজের ঘণ্টা। ১৮০৬ সালে আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ার ধর্মঘটী জুতা শ্রমিকদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে প্রকাশ পায় যে, শ্রমিকদের সেখানে ১৯ থেকে ২০ ঘণ্টাও খাটানো হয়ে থাকে। এই কাজের ঘণ্টা কমানোর আন্দোলনের সঙ্গে মে দিবসের জন্ম কাহিনী অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। ১৮২০ থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত কাজের ঘণ্টা কমানোর দাবিতে ধর্মঘটের পরে ধর্মঘট হতে থাকে। দুনিয়ার প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন বলে খ্যাত ফিলাডেলফিয়ার মেকানিকদের ইউনিয়নের জন্ম হয় ১৮২৭ সালে, এই কাজের ঘণ্টা কমিয়ে ১০ ঘণ্টা করার দাবিতে ধর্মঘট করার মধ্য দিয়েই। শুধুমাত্র আমেরিকাতেই নয়, যেখানেই নব্য পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিকরা শোষিত হচ্ছিল সেখানেই এই আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু হয়। অস্ট্রেলিয়ার গৃহনির্মাণ শ্রমিকরাও আওয়াজ তুলেছিল ‘৮ ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা আমোদ প্রমোদ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম’ একপর্যায়ে এই দাবি আদায় করতেও তারা সক্ষম হয়েছিল।

কি হয়েছিল
‘হে মার্কেট স্কোয়ারে’ ?
*************************
৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে ১৮৮৬ সালে আমিরিকার শিকাগো শহরের শ্রমিকরা ১ মে থেকে ৪ মে পর্যন্ত ধারাবাহিক চালায়। ৪ মে ‘হে মার্কেট স্কোয়ারে’ এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে শ্রমিক নেতা স্পাইজ, পার্সনেজ ও শেষে ফিলডেন বক্তৃতা করেন।

সভার শেষের দিকে মালিক ও সরকারি দালারদের মধ্য থেকে সভাস্থলে বোমা ফাটানো হয় এবং একই সভাস্থলে সশস্ত্র বাহিনী শ্রমিক জনতার উপর নির্বাচারে লাঠির্চাজ ও গুলি চালায়। এতে ৬ জন শ্রমিক ও ৭ জন পুলিশ নিহত এবং অসংখ্য শ্রমিক আহত হয়। হে মার্কেট চত্ত্বর রক্তের বন্যায় ভেসে যায়। এটাই ইতিহাসে হে মার্কেট ঘটনা বলে পরিচিত। আমাদের এই উপমহাদেশসহ পৃথিবীর নানা দেশের শ্রমিক আন্দোলনের উপর এই ঘটনার প্রভাব অপরিসীম। এই সমাবেশে পূর্বে থেকেই ক্যাপ্টেন ওয়ার্টের নেতৃত্বে প্রায় দুইশত সশস্ত্র পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েত করা হয়েছিল। এই সমাবেশস্থল থেকে ৮ জন শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের এক প্রহসন সংঘটিত হয় ও তাদের মধ্যে ৫ জনকে (আলবার্ট পার্সনস, অগাস্ট স্পাইজ, জর্জ এঞ্জেল, এডলক ফিষ্টারও লুই কিং) ফাঁসি দেওয়া হয় ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর। এসব নেতাদের শোক মিছিল বের হয় শিকাগোতে এবং বাকি ৩ জনের মুক্তির দাবিতে সারা বিশ্বে এক অভূতপূর্ব শ্রমিক আন্দোলন হয়। ১৮৯৩ সালের ২৬ জুন ইলিনয়ের গভর্নর পিটার বিচারের রায় ঘোষণা করেন এবং ঐ ৩ জনকে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়।

পহেলা মে কিভাবে
মে দিবস হলো ?
*******************
১৮৮৬ সালের ১ মে। এই দিন ইতিহাসে কেন গুরুত্ব পেল? মে মাসের আগে থেকে আমেরিকার শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা শ্রম-দিবসের দাবিতে ধর্মঘট করছিল। পুঁজিপতিরা এই ধর্মঘট নানাভাবে বানচাল করারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। শ্রমিকদের ধর্মঘটের কেন্দ্র ছিল শিকাগো শহরে। এখানকার ট্রেড ইউনিয়নগুলোতে বামপন্থীদের প্রভাব ছিল। সে কারণে এখানে গড়ে উঠেছিল জোরদার আন্দোলন। আমেরিকায় বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সমন্বয়ে যে কেন্দ্রীয় ফেডারেশন কাজ করছিল তার নাম ছিল ‘সেন্ট্রাল লেবার ইউনিয়ন’।

১ মে তারিখের ধর্মঘট সফল করার জন্য সপ্তাহ আগে শিকাগোতে ‘সেন্টাল লেবার ইউনিয়ন’ এক শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করে। শ্রমিকরা সমস্ত বাধা-বিপত্তি অগ্রাহ্য করে মিশিগান এভিনিউ চত্বরে জমায়েত হয়। ৩ মে এক কারখানায় সভা চলাকালে পুলিশ শ্রমিকদের উপর গুলি চলালে ৬ জন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং বহু শ্রমিক আহত হয়। পুলিশ যে জায়গায় শ্রমিকদের উপর গুলিবর্ষণ করে তার খুব কাছে এক শ্রমিক সমাবেশে প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা স্পাইজ বক্তৃতা করছিলেন। গুলিবর্ষণের খবর শুনে তিনি অন্যান্য নেতা ও সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করে ৪ মে হে মার্কেটে সভা আহ্বান করেন।

‘হে’ মার্কেট স্কোয়ারে ৪ মে তারিখে বিরাট শ্রমিক সমাবেশ ঘটে। সমাবেশের কাছেই পুলিশ অবস্থান করছিল। স্পাইজ, পার্সনস প্রমুখ নেতার বক্তৃতার পর শেষ বক্তা সাম ফিলডেনের বক্তৃতা শেষ করার পর পরই, যখন শ্রোতারাও চলে যেতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে ওয়ার্ড নামে এক ক্যাপ্টেন এই সভা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। তখন সভা প্রায় শেষই হয়ে গেছে। এই সময়ে বিকট বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। পরে জানা যায়, এ কাজটি পুলিশের লোকেরাই করেছিল, এটা ছিল সাবোটাজ।

About Shishir

A positive person can be change the society.

Check Also

আমার পরিচয়

ধর্মীয়বাদ নবী ও রাসূল ************** নবী এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা যাকে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *