রবিবার , আগস্ট ২০ ২০১৭ | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / অর্থনীতি / মহান মে দিবস ; ‘ প্রথম আন্তর্জাতিক ‘ কি?

মহান মে দিবস ; ‘ প্রথম আন্তর্জাতিক ‘ কি?


মার্কস ও এঙ্গেলসেরও বিশ্বাস ছিল যে, শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন সংগঠন গড?ে উঠবে এবং তার আকৃতি-প্রকৃতি হবে ব্যাপক। এই বাস্তব ফলই হলো আন্তর্জাতিক সমিতি যা কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসে ‘প্রথম আন্তর্জাতিক’ নামে খ্যাত। ‘প্রথম আন্তর্জাতিক’ শ্রমিক আন্দোলনকে সারা পৃথিবীতে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্রথম আন্তর্জাতিকের ১৮৬৬ সালের সম্মেলনে দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রম দিবস উত্থাপিত হয় এবং এর ফলে ১৮৮৬ সালে শিকাগোতে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। ১৮৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে আবার এঙ্গেলসের নেতৃত্বে প্যারিস দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রতিষ্ঠা হল। এই বছরই সোস্যালিস্ট লেবার ইন্টারন্যাশনালের সম্মেলনে জার্মান কমিউনিস্ট মহিলা নেত্রী ক্লারা জেটকিনের ঘোষণা মতো ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছরে ১ মে দিবস পালনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এভাবেই শ্রম দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে মে দিবস পালনের সূচনা হয়।

ভারতীয় উপমহাদেশে মে দিবস:
********************************
অপরদিকে অবিভক্ত বাংলায় প্রথম কবে মে-দিবস পালিত হয়, তা ঠিক জানা যায় না, তবে মে-দিবস পালনের ঘোষণা দেয়া হয় ১৯২৭ সালে সারা ভারত কংগ্রেসের দিল্লি অধিবেশনে। অনুমান করা হয় যে এর আগে বাংলার মে-দিবস উদযাপিত হয়নি। যতদূর জানা যায়, ১৯৩৮ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রথম মে-দিবস পালন করা হয়। চল্লিশের দশকে মে-দিবস গুরুত্ব সহকারেই পালিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর বামপন্থী ও কমিউনিস্টরা নানাস্থানে মে-দিবস পালন করেছে।

বাংলাদেশে কি ভাবে
মে দিবস পালন শুরু হলো?
*******************************
১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর এ দেশের শ্রমিকশ্রেণী সর্বাত্মকভাবে মে-দিবস পালন করে চলেছে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের উদ্যোগে ব্যাপক হারে মে দিবস পালিত হয়েছিল। বাংলাদেশের মেহনতি মানুষ শোষণহীন সমাজ কাঠামোর মধ্যে অগ্রসর হচ্ছিল সে সময়। কিন্তু কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল তা ব্যাহত করার চক্রান্তে লিপ্ত হয় এবং সফলও হয়।

এখনো তাই চলছে। বাংলাদেশে এখনো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৮ ঘণ্টা শ্রম দিবস অকার্যকর রয়েছে। যেমন- গার্মেন্টস শিল্প, গৃহনির্মাণ শিল্প ও ইপিজেড শ্রমিক এলাকায়। বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি যে, খুব ক্ষুদ্র আকারে বা অসংগঠিতভাবে হলেও বর্তমানে শ্রমিকরা তাদের নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করছে। সেখানে তারা সফলও হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও প্রশ্ন একটি পরিপূর্ণ সম্ভাবনা বা প্রত্যাশা থাকার পরও কেন এদেশে একটি কার্যকর জাতীয় শ্রমিক আন্দোলন গড়ে উঠছে না ?

স্বাধীনতার পর বিগত চার দশক ধরে নির্যাতন, ধর্মঘট, হত্যা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর সামনে এই প্রশ্নই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে যে, এই রাষ্ট্রটি কার? বুর্জোয়া সমাজে কমিউনিষ্ট কর্মীদেরকে শ্রমিক আন্দোলন করতে হলে, বাঁচার মধ্য দিয়েই সেই সমাজের সীমাবদ্ধতাগুলো একজন শ্রমিকের সামনে তুলে ধরতে হবে। শুধুমাত্র চেতনাগতভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রমিক শ্রেণীর উপর নির্ভর করেই এই সমস্যার সমাধান করা যাবে এটা করা ভুল হবে। একটু ধৈর্য ধরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে ভবিষ্যতে খুব ছোট দলও বড় কোনো ঘটনার জন্ম দিতে পারবে এমনটিই বলছে বর্তমান বাস্তবতা।

আজ মহান মে দিবস
*********************
আজ মহান মে দিবস। বাংলাদেশে এইবার মে দিবস আসিয়াছে এমন এক সময়ে যখন গোটা জাতি মাত্র কিছু দিন আগে সাভার ট্র্যাজিডির বর্ষপূর্তি পালন করিয়াছে। তাই এখনো শোকে মূহ্যমান গোটা জাতি। স্বাধীনতার ৪৩ বৎসর অতিক্রম করিবার পরও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নারীরা আধ ঘন্টা, দুই ঘন্টা ওভারটাইম, কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা মাতৃত্বকালীন ছুটি, বাসস্থানের সুবিধা, যাতায়াতের ব্যবস্থা, চিকিৎসার দাবিসহ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিয়া যখন লড়াই করিতেছে আজো।

মে দিবস আসে মে দিবস যায় কিন্ত ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না অসহায় দরিদ্র নিগৃহিত শ্রমিকদের। মে দিবসকে কেন্দ্র করিয়া শ্রম আর পুঁজির যে লড়াই সে লড়াইয়ে দরিদ্র বাংলাদেশের দরিদ্র নর-নারীর অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। মে দিবস দুনিয়ার শ্রমিকদের এক হওয়ার ব্রত। আন্তর্জাতিক সংগ্রাম আর সৌভ্রাতৃত্বের দিন। মে দিবস শোষণ মুক্তির অঙ্গীকার, ধনকুবের ত্রাস, শোষণহীন সমাজ গড়ার শপথ। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে আসিয়া মে দিবসের অর্থ বদলাইয়া গেল। মে দিবস হইল কাজের সময় হ্রাস ও মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন, হইল দুনিয়ার শ্রমিকদের সংহতি দিবস, পুঁজিবাদী শোষণ মুক্তির সংগ্রামী শপথ।

শ্রমিক শ্রেণীর আন্দোলন হইতেই উঠিয়া আসিয়াছে এই দিনটি। মে দিবসের পিছনে রহিয়াছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। রহিয়াছে অনেক রক্তঝরার কাহিনী। আমাদের দেশেও ঝরিয়াছে শ্রমিকের রক্ত। আমাদের দেশেও সংগ্রামী শ্রেণীর সামনে উন্মোচিত হইয়াছে নতুন দিগন্ত। এখনও জনসংখ্যার বৃহৎ অংশ পুঁজিবাদী দাসত্ব হইতে মুক্ত নয়। ১৮৫৭ সালে যেই শ্রমিকরা শিকাগো শহরে লড়াই করিয়াছিলেন দীর্ঘ কর্মঘন্টার বিরুদ্ধে, নির্যাতনের বিরুদ্ধে।

About Shishir

A positive person can be change the society.

Check Also

আমার পরিচয়

ধর্মীয়বাদ নবী ও রাসূল ************** নবী এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা যাকে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *