সোমবার , অক্টোবর ২৩ ২০১৭ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / Uncategorized / মা জননী ও জম্মদিন ; শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা

মা জননী ও জম্মদিন ; শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা

মা জননী ও জম্মদিন ;
শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা :
************************

মমতাময়ী মা,
সবিনয় সালাম রইল, নিশ্চিয়ই মা ভাল আছেন । কেন জানি ! আজ নিজের একান্ত ব্যক্তিগত কিছু কথা বলতে ও লেখতে ইচ্ছে করছে । আজকের এই সুন্দর স্বপ্নেবুনা সকালটা আমার জীবনে আর কোনদিন ফিরে আসবে না ।এভাবেই জীবন ক্ষয়ে আমাদের ব্যাপ্তির সম্ভবনার প্রতিটা সকাল একটু একটু করে খর্ব করে চলছে । তাই যতটা সম্ভব প্রতিটা জিনিস আমরা গুছিয়ে নিচ্ছি । আপনার শিখানো সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের নিয়ম-নীতির মধ্যে ।

জননী, আপন পর সবাইকে যথাসম্ভব ভালবাসা দিচ্ছি কারন আপনি সর্বদা বলতেন, জগৎ-সংসারে ভালবাসা সবচেয় দামী ও মূল্যবান । ভালবাসা দিয়েই শুধু ভালাবাসাকে জয় করা যায় বা পৃথিবীকে জয় করা যায়, এমনকি পাথরেও ফুল ফুটানো যায় আর এই ভালবাসা পেতে হলে ভালাবাসা সকলের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয় । তাই ভালবাসা পেতে হলে অবশ্যই ভালবেসেই পেতে হবে এটাই জগতের নিয়ম। টাকা দিয়ে ভালবাসা কিনতে পাওয়া যায় না ।

মা জননী, আপনাকে অনুসরন করে যতটুকু ভালবাসা আমি নিজের মধ্যে ধারণ বা রপ্ত করতে পেরেছি [ টিক জানি না কতটুকু পেরেছি ] । ঐ ভালবাসাটুকুই আমার মূল সম্ভল । তা দিয়েই আমি এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি । আপনি যেমন পরিবারের মধ্যে ভালবাসা দিয়ে বলয় তৈরি করে রেখেছিলেন, আমিও ভালবাসার বন্ধনে পরিবারকে আগলে রাখার চেষ্টা করছি । জানি না ! আপনার মত সফল হতে পারবো কি না তবে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না । মাগো, এভাবেই চলছে আপনার সন্তানের সহজ সরল জীবন ।

মমতাময়ী মা, আজ আরেকটি নতুন বছরের শুরু । শিশিরভেজা হেমন্তের এক ভোর, কি সুন্দর করে সেজেছে প্রকৃতি, যেন মায়ার বাধনে বেধে রাখবে সকলকে । এর মধ্যে পৃথিবীতে আগমন ঘটলো তোমার ৫ম সন্তান আর ছেলেদের মধ্যে তৃতীয় । সেই দিন ছিল বুধবার সকাল ৮:৩০ ঘটিকায় তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়ে, তোমার আপন ঘরে তোমার এই ছোট শিশু জম্ম নিয়ে ছিল । সেই শিশুটি আজ অনেক বড় হয়েছে ।

মা জননী, হাঁটিতে হাঁটিতে শিশু, শৈশোব, কৈশোর ও যুবক এই চার স্তর পার হয়ে ,এখন আমি একজন মধ্যবয়স্ক প্রথম শ্রেনীর নাগরিক । আজ আমার বয়স সাতচল্লিশ [৪৭] এ পা রেখেছি ।আমার বাবা ছিলেন খুবই তেজী মেজাজের, নীতিবান ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তি । তিনি সমাজের অনুশাসনগুলি মানতেন [তার মত করে অন্য কারো প্ররচনায় পরে নয়] । তিনি ছেলেমেয়েদের জম্মদিনের উৎসব পালন করার চেয় সমাজের অন্য আরো অনেক সমস্যা আছে যা তার [আমার বাবার] কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করতেন । তাই কখনও জন্মদিন বড় ভাইবোনদের ইচ্ছা থাকলেও করা হয়নি বা করতে দেয়নি ।

এরেই মধ্য, আমার মা আঁট (৮) বছর বয়সে একবার জন্মদিন পালন করেছিল [আমার এই সকল অনুষ্টান ছোট থেকেই ভাল লাগে না] , তাই জন্ম দিনের উৎসব এর প্রতি আমার কোন আগ্রহ নেই কারন বাবার সততা, নিষ্ঠা, অসাধারন ব্যক্তিত্ব, আপোষহীন নীতির মাধ্যমে আমাদের বড় করেছেন ।সমাজের বড় বলতে যা বুঝায় অর্থাৎ শিক্ষা, কর্ম দক্ষতা ও সমাজের সদস্যদের ইজ্জত পাওয়া এবং দেওয়া, যা আমার বাবা আমাদের বুঝায়তেন বা করতে বলতেন । জানি না, আমি কতটুকু পেরেছি ? এটার সঠিক উত্তর আমার আপন জন’রা ভাল দিতে পারবে কিন্তু আমার চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না ।

কতটুকু বড় হয়েছি, জানিনা তবে বাবার কথাগুলো রাখতে পেরেছি বলে আমার মনে হয় । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযে পড়াশুনা করেছি এবং একেই সাথে ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত হয় । পড়াশুনা শেষ করে নিজেই ব্যবসা বাণিজ্য এর সাথে যুক্ত হয় কারন আমি ব্যক্তিগত ভাবে সরকারী বা কোন ধরনের চাকুরীর প্রতি কোনদিন আগ্রহ ছিল না ।তাই পড়াশুনা শেষ করে পরিশ্রমী ব্যবসায়ী হয় ।

বর্তমানে আমি একজন মোটামুটি সফল ব্যবসায়ী । আমি নিজের চেষ্টায় ও পরিশ্রম করে তিনটি ষ্টীল এন্ড রি-রোলিং মিলস করতে সক্ষম হয় । একেই সাথে আমি অল্প বয়স থেকেই এলাকার খেলাধুলা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলাম ।আমি এখনো স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্টানের কর্মকান্ডে নিজের সাধ্যমত জড়িত থাকার চেষ্টা করি । আমার এলাকার ও দেশের সামান্য সেবা করার চেষ্টা করছি এবং ভবিষ্যতেও করবো ।আমি কিছু কিছু স্বপ্ন এখনও লালন করি হয়তো ভবিষ্যতে হতেও পারে নাও পারে, এই আশা নিয়ে বেচে থাকতে চাই ।

মমতাময়ী মা ,আমারও দুইটি সন্তান আছে । আপনার দেখানো পথ আমি এখন ওদের দেখাই । আমি যেই ভাবে আপনার কাছে বায়না করতাম, ওরাও এখন আমার কাছে একেই ধরনের বায়না কারে । মাঝে মাঝে অবাক লাগে । কিছুক্ষন পর নিজে নিজেকে বলি, এটাই প্রকৃতির নিয়ম ।

আমি শুধু ভালবাসার বন্ধন তৈরি করতে চাই, সকল স্তরের মানুষের সাথে ।আর আমার ছো্ট ছোট স্বপ্নগুলি বাস্তবায়ন করতে চাই, যেই সুযোগ সুবিধা আমাদের এলাকায় আমরা পাইনি । আগামী প্রজম্মকে সেই সুযোগ সুবিধা আমরা করে দিয়ে যেতে চাই । এই আশা নিয়ে আমি বেঁচে থাকতে চাই আগামীদিন গুলোতে ।

আমি সর্বদা জনগনের সাথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো । সকলকে আমার শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানিয়ে শেষ করছি । [ ধন্যবাদ ] [ মো: জাকির হোসেন ] ***********************

About Shishir

Check Also

ঈদ-উল-ফিতর!! আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

ঈদ-উল-ফিতর ******************** ঈদ শব্দটি আরবি। যার অর্থ হচ্ছে-ফিরে আসা। যেহেতু ঈদ খুশির বার্তা নিয়ে বার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *