বৃহস্পতিবার , ডিসেম্বর ১৪ ২০১৭ | ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / Uncategorized / আমাদের গ্রাম কেয়টখালী

আমাদের গ্রাম কেয়টখালী

আমাদের গ্রাম কেয়টখালী ।।

কেয়টখালী

কেয়ট + খালী = কেয়টখালী ।

******************************

আমাদের গ্রামের নাম কেয়টখালী । কেয়টখালী নামটি দুইটি শব্দ [ সন্ধিবিচ্ছেদ ] দিয়ে গঠিত । এর মধ্যে একটি হচ্ছে কেয়ট ,আরেকটি হচ্ছে খালী । দুইটি এক সাথে কেয়টখালী । আবার আলাদা করলে – কেয়ট ও খালী ।

 

কেয়ট ও খালী শব্দ দুইটির অর্থ :-

বাংলা একাডেমী’র ,ব্যবহারিক বাংলা অভিধান অনুসারে ।

**********************************************

** কেয়ট অর্থ : ধীবর জাতিগোষ্টিকে বুঝায় ,যা বৈদিক ধর্মের একটি উপজাতি । কেয়ট ,কৈবর্ত ও কেওট একেই অর্থ হিসেবে ব্যাবহার করা হয় । কেয়ট বা ধীবর জাতিগোষ্টির একমাএ পেশা ছিল মাছ শিকার করা । তাই এদের এক কথায় বলা হতো জেলে । এদের বংশ পদবী ছিল চন্দ্র ।

 

** খালী অর্থ : শূন্য বা ফাকা জায়গায় বিশেষ ।

 

এখন ,কেয়ট ও খালী শব্দ দুইটি একত্রিত করলে ,এর অর্থ দ্বারায় ,“ জেলে শূন্য কোন স্থান । ”

 

১৭০০-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের কোন এক সময় উচ্চ বর্ণের বৈদিক হিন্দুরা নিম্ম বর্ণের হিন্দুদের এই স্থান থেকে তাড়িয়ে দেয় । যার ফলে এই স্থানের নাম হয় কেয়টখালী । অথ্যাৎ জেলে শূন্য কোন স্থান বা কেয়টখালী । এখনও এই গ্রামের একটি সমাজ আছে, যার নাম চন্দ্রবাড়ী । চন্দ্র কেয়ট বা ধীবর জাতিগোষ্টির বংশ পদবী ।

 

আমদের গ্রাম একটি আদর্শ গ্রাম । এখানে গ্রামের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আছে । একেই সাথে ঢাকার কাছাকাছি হওয়া শহরেরও সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আছে । আমাদের গ্রামের নাম কেয়টখালী ,ডাকঘর – হাঁসাড়া ,ইউনিয়ন – ষোলঘর ,উপজেলা – শ্রীনগর ও জেলা – মুন্সিগজ্ঞ । কেয়টখালী গ্রামের পশ্চিম পাশে আড়িয়াল বিল অবস্থিত ।

 

আমাদের গ্রামের সমাজ ব্যবস্থা মসজিদ কেন্দ্রিক কিন্তু ধর্মান্ধ নয় । অধিকাংশ মানুষ সচেতন ও প্রগতিবাদি । এখানে যেমন র্ধমীয় মাহফিল হয় তেমনি মেলা ও সংস্কতিক অনুষ্টান হয় । অধিকাংশ মানুষ অহিংসাবাদী এবং রাজনৈতিক ভাবেও সচেতন ।

 

ইতিহাস :

**********

লেখক মুনতাসীর মামুন তার লেখা “ ঢাকার মসলিন ” বইতে কেয়টখালী গ্রামের নাম উল্লেখ্য করেছেন । বইতে “ অনুশীল ও যুগান্তর সমিতি ” নামক বিপ্লবী সংঘঠনের সাথে সাথে কেয়টখালী গ্রামের নাম আলোচনায় আসে ।

 

লেখক ড. মোহাম্মদ হান্নান সম্পাদিত “ বাংলাদেশের ছাএ আন্দোলনের ইতিহাস ১৮৩০-১৯৭১ ” বইতে কেয়টখালী নাম উঠে এসেছে । বইতে যেভাবে আছে সেভাবে তুলে ধরা হলো ।

 

“ ঢাকায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন অনুশীলন সমিতির শক্ত ঘাঁটি ছিল । তাই এই অজ্ঞলে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন অত্যন্ত সক্রিয় ছিল । বিশেষ করে ঢাকার বিক্রমপুরের টঙ্গিবাড়ির সোনারং ,ধোপড়াপাশা অজ্ঞল এবং শ্রীনগরের ষোলঘর ,হাঁসাড়া ও কেয়টখালীতে সন্তাসবাদী ছাএ-যুবকদের প্রবল প্রতাপ থাকায় তারা সেখানে গিয়ে স্কুলগুলোতে গর্যন্ত ক্যাম্প করে থাকত । ”

 

কেয়টখালী গ্রামের গাঙ্গালী বাড়ীতে দ্বীজেন গাঙ্গালী জম্মগ্রহন করেন । বর্তমানে এই বাড়ীতে জনাব মো: লাল মিয়া ও তার ভাই’রা বসবাস করে ।

 

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন সম্পাদিত “ ঢাকার স্মৃতি !!৩ ” বইতে রাজনীতিবিদ , কূটনীতিক ও গবেষক কামরুদ্দীন আহমদের ঢাকাবিষয়ক স্মৃতিকথায় কেয়টখালী গ্রামের নাম উঠে এসেছে । বইতে যেই ভাবে আছে তা তুলে ধরা হলো ,

 

“ ঢাকা জেলার গ্রামাগুলোতে ১৯৩০ সনের পর থেকেই সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়তে থাকে । ষোলঘর ,হাঁসাড়া ও কেয়টখালীতে হিন্দু মধ্যবিত্ত যুবকেরা অত্যন্ত ক্ষমতাশালী হয়ে উঠে । বৃটিশ সরকার ডরসেটশিয়ার রেজিমেন্টকে ঢাকায় ক্যাম্প করার জন্যে পাঠায় । সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সম্মুখে তারা ছাউনি ফেলে- বাঁশের ঘর উঠতে থাকে- [ নাম দেয়া হয় প্লাসী ব্যারাক ] । এ রেজিমেন্ট ষোলঘর ,হাঁসাড়া ও কেয়টখালী’র বিভিন্ন জায়গায় মার্চ করে বেড়ায় আর স্কুলের মাঠে ক্যাম্প করে থাকে । দেশের সাধারন জনগনের মধ্যে একটা ভীতি কর অবস্থা তৈরি করে । কেয়টখালী’র দ্বীজেন গাঙ্গুলী’র দল তখন ধরা পড়ে ,মুন্সিগজ্ঞে বিচারের সম্মুখীন হয় । অনেক বড় বড় উকিল এসেছিল তাদের পক্ষে । ঢাকার প্রসিদ্ধ উকিল শ্রীশ দাস তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন । ”

 

[ সংগৃহিত ]

**************

About Shishir

Check Also

আমার পরিচয়

ধর্মীয়বাদ নবী ও রাসূল ************** নবী এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা যাকে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *