সোমবার , অক্টোবর ২৩ ২০১৭ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Breaking News
Home / Uncategorized / ​ঢাকায় পৌষেও শীতের দেখা নেই

​ঢাকায় পৌষেও শীতের দেখা নেই

আবহমান বাংলায় হেমন্তের শুরুতে অর্থাৎ কার্তিকেই কুয়াশার দেখা মেলে; প্রকৃতি জানান দেয় শীত এল বলে। আর পৌষ ও মাঘের পুরো সময়টা জুড়ে থাকে কনকনে শীত। রাজধানীতে এর তীব্রতা ততটা না থাকলেও গরম পোশাক ছাড়া শীতের কামড় থেকে বাঁচা দায়। কিন্তু এবার পৌষের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও ঢাকায় মোটেও শীত পড়েনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতে শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও বেশি পরিমাণ কুয়াশা থাকলে রাত-দিনের তাপমাত্রা কাছাকাছি থাকায় এবং পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না থাকায় ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। উচ্চচাপ বলয়ের কারণেও শীত বেশি পড়ে। এ ছাড়া পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে বৃষ্টিপাত হলেও তামপাত্রা কমে শীত অনুভূত হয়। এসব অনুষঙ্গের একটিও রাজধানী ঢাকায় দেখা মিলছে না। এ কারণে শীতের প্রকোপ অনুভূত হচ্ছে না। কনকনে শীতের পরশ পেতে অপেক্ষা করতে হবে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত। এমনটিই জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর বর্ষা পরবর্তী সময়ে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের আনাগোনা ছিল বেশ কয়েক দফা। তাই মধ্য নভেম্বরে যে শীতের আগমনী ঘণ্টা বাজবে, এমনটা প্রায় নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ফের বঙ্গোপসাগরে হাজির নিম্নচাপ, যা পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। সেই ঘূর্ণাবর্তেই আটকে রয়েছে শীতের হাওয়া।

ঋতুচক্র অনুযায়ী সাধারণত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশে শীত অনুভূত হতে থাকে। অবশ্য এবার ব্যত্যয় ঘটেছে। গত ১০ বছরের ইতিহাসে এবারের ডিসেম্বরে শুধু রাজধানীই নয়, সারা দেশের গড় তাপমাত্রা বেশি। তথ্য-উপাত্ত বলছে, এল-নিনোর প্রভাবে বিশ্বের অনেক স্থানে ২০১৬ সালের শুরুই হয় আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ দিয়ে। একই কারণে ২০১৫ সাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম বছর।

প্রকৃতির কেন এই বৈরী আচরণ? জানতে চাইলে সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্রের সাবেক বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান আমাদের সময়কে জানান, প্রায় প্রতি ৮ থেকে ১২ বছর পর আবহাওয়া রুদ্র রূপ ধারণ করে। ১৯৯৮ সালের বন্যার পর ২০০৪ সালের বন্যা। ২০০৩ সালের তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পর আর তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা যায়নি। তবে পুবালী বায়ুর প্রভাবে এবার শীত বিলম্বিত হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা লঘুচাপ নেপাল, ভুটান হয়ে দেশের ভেতর দিয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। উচ্চচাপ বলয়ের কারণে দেশে শীত খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে গেলে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে। তখন শীত বাড়তে শুরু করবে। এমনকি মধ্য জানুয়ারি থেকে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। তবে তা স্বল্প না দীর্ঘমেয়াদি হবে তা বলার সময় এখনো আসেনি। ডিসেম্বরে দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি হয়েছে। একে স্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে এ বিজ্ঞানী বলেন, এই সময়ে দেশে ২ শতাংশ বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ বৃষ্টি কৃষির জন্য ভালো। আবদুল মান্নান আরও বলেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের কারণেই মূলত শীত নামে। সাইবেরিয়া থেকে উচ্চচাপ বলয় হিমালয় পেরিয়ে এ দেশে প্রবেশ করে। বর্তমানে উপমহাদেশজুড়ে পশ্চিমা লঘুচাপ বিরাজ করছে। এ লঘুচাপ দুর্বল না হওয়া পর্যন্ত শীতের অনুভূতি কমই থাকবে।

একদিনের পর্যালোচনা : ২০০৫ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত শুধু গতকাল ২৭ ডিসেম্বরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০০৬ সালে ১২.৪, ২০০৭ সালে ১৪.৫, ২০০৮ সালে ১৫, ২০০৯ সালে ১২.৪, ২০১০ সালে ১৪.৭, ২০১১ সালে ১৩, ২০১২ সালে ১১.৩, ২০১৩ সালে ১২.৩, ২০১৪ সালে ১২.৩, ২০১৫ সালে ১৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড ছিল। গতকাল ২৭ ডিসেম্বর রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ১৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১০ বছরে সর্বোচ্চ।

প্রকৃতিগত কারণে চুয়াডাঙ্গা জেলায় মৌসুমে সবচেয়ে বেশি শীত অনুভূত হলেও আবহাওয়া অফিসের রেকর্ড বলছে, ২০০৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০০৬ সালে ৯.৮, ২০০৭ সালে ১০.৮, ২০০৮ সালে ১২, ২০০৯ সালে ৬.২, ২০১০ সালে ৭.০, ২০১১ সালে ৮.৪, ২০১২ সালে ৬.৮, ২০১৩ সালে ৯, ২০১৪ সালে ৭.৫, ২০১৫ সালে ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ২০১৬ সালে অর্থাৎ গতকাল রেকর্ড করা হয় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে বেড়েছে দেশের গড় তাপমাত্রাও। ২০০৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ছিল ১৩.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০০৬ সালে ১২.২, ২০০৭ সালে ১৩.২, ২০০৮ সালে ১৩.৯, ২০০৯ সালে ৯.৪, ২০১০ সালে ১১.২, ২০১১ সালে ১৩.২, ২০১২ সালে ১০.২, ২০১৩ সালে ১১.৭, ২০১৪ সালে ১১.৯, ২০১৫ সালে ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ বছর গতকাল গড় তাপমাত্রা ছিল ১৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পরিবেশ কর্মী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আবু নাসের খান জানান, বাংলাদেশে শীত বিলম্বিত হচ্ছে শুধু এটিই নয়, দাবদাহও বাড়ছে। সারা বিশ্বে ১০০ বছরের মধ্যে এ বছরের মার্চে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের অন্য জেলার মতো ঢাকার তাপমাত্রাও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসংখ্যার আধিক্য, নিম্নমানের গণপরিবহন, যানবাহন ও জেনারেটরের ধোঁয়া, বিভিন্ন ভবন ও যানবাহনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) বাতাস, পাকা ভবন ও রাস্তাঘাট, সবুজ চত্বর ও গাছপালার অভাব, উন্মুক্ত স্থান, মাঠ, পার্ক ও লেকের অপর্যাপ্ততা, নিম্নাঞ্চল ও জলাভূমির স্বল্পতা, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন ঢাকায় এলাকাভেদে তাপমাত্রার তারতম্য নিরুপণের লক্ষ্যে পৃথক পৃথক সময়ে সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা জরিপ করে। জরিপের গড় ফলে দেখা যায়, ধানমণ্ডি লেক এলাকার চেয়ে ঢাকার অন্য যে কোনো এলাকার তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকে। এলাকাভেদে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা পাওয়া যায় পল্টন মোড়, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ১ নং গেট, শাপলা চত্বর, নিউমার্কেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায়, যা অন্য এলাকার চেয়ে ১.৫ থেকে ৪ ডিগ্রি বেশি। এর প্রধান কারণ হিসেবে পবার বক্তব্য, মোটরযানের ধোঁয়া, এসির গরম বাতাস ও রাজপথের গরম। রাস্তার পাশে ফুটপাথে বা ছায়ার চেয়ে রাস্তার মাঝখানে বা রোদে তাপমাত্রা ১ থেকে ২.৫ ডিগ্রি বেশি। বাসের ভেতরে পেছনের চেয়ে সামনে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি। গণপরিবহন সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করাই এর প্রধান কারণ বলে মনে করে পবা। ঢাকায় থার্মোমিটারে যে তাপমাত্রা পাওয়া যায় বাস্তবে ঢাকার জনজীবনে অনুভূত তাপমাত্রা ৩ থেকে ৮ ডিগ্রি বেশি।
অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ১০০ বছরে বাংলাদেশে তাপমাত্রা ০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও ঢাকায় বেড়েছে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গাছপালা একদিকে তাপ শুষে নেয় অন্যদিকে শীতল অক্সিজেন সরবরাহ করে। জলাভূমিও তাপ শোষণ করে। কিন্তু পরিহাসের বিষয়, আমরা গাছপালা ও জলাভূমি দুটিই ধ্বংস করছি এবং রাজধানী ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছি।

বৈরী প্রকৃতি : ২০১৬ সাল শুরু থেকেই আবহাওয়া বৈরী আচরণ করছে প্রকৃতি। ২০০৭-এ সিডর, ২০০৯-এ আইলা, ২০১০ সালে একদিনে সর্বকালের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের পর এ বছরের মার্চে গত ১১ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের রেকর্ড বলছে, বিদায়ী মার্চে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৪.৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বন্যা, সাইক্লোন, অনাবৃষ্টি, শৈত্যপ্রবাহ, অতিগরম প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাভাবিক জীবনধারায় প্রতিবছরই আঘাত আসছে। জার্মান ওয়াচ গ্লোবাল ক্লাইমেট রিক্স ইনডেক্সের (সিআরআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের গত ৩৫ বছরের (১৯৮১-২০১৬) দৈনিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৮১ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত প্রাক বর্ষা মৌসুমে (মার্চ, এপ্রিল, মে) স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। পরবর্তী ২০ বছর (১৯৯২-২০১২) স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ কম এবং পরবর্তী ৪ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উঠানামা করেছে। বর্তমানে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলেও প্রাক-বর্ষা মৌসুমে দেশের গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০০৭ সালের পর আবহাওয়া বৈরী হয়ে ওঠার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া বৈরী আচরণ করলে তার প্রভাব অন্য দেশেও পরোক্ষভাবে পড়ে। তারা জানান, ভবিষ্যতে আবহাওয়া আরও বৈরী হয়ে উঠতে পারে।

imac Review Overview

DESIGN - 83%
DISPLAY - 78%
PERFORMANCE - 91%
SOFTWARE - 73%

81%

Great

Don’t act so surprised, Your Highness. You weren’t on any mercy mission this time. Several transmissions were beamed to this ship by Rebel

Get It Now
User Rating: 4.45 ( 4 votes)

About Shishir

Check Also

আমার পরিচয়

ধর্মীয়বাদ নবী ও রাসূল ************** নবী এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা যাকে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *